সেশনজটের কবলে শাবি শিক্ষার্থীরা

দীর্ঘ প্রায় ছয় মাসের অঘোষিত বন্ধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। ফলে ভয়াবহ সেশনজটের কবলে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৬ মাস থেকে দেড় বছরের সেশনজট বিরাজ করছে। এতে শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষা জীবন শেষ করা নিয়ে শংকায় রয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছেন, সেশনজট আগে কিছুটা ছিল। গত বছরের ২০ নভেম্বরের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণেই এই সেশনজট তৈরি হয়েছে। সেশনজট নিরসনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। দ্রুত ক্লাস-পরীক্ষা নিয়ে সেশনজট নিরসন করতে সকল বিভাগের শিক্ষকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য উত্তম কুমার দাস। এই ঘটনার জের ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘট ডাকে ছাত্রলীগের একাংশ। কিন্তু ঘটনার ২ দিন পর ঈদের ছুটি থাকায় পরিস্থিতি বিবেচনা করে ২ দিন আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদের ছুটি ঘোষণা করা হয়। ঈদের ছুটির পরে বিশ্ববিদ্যালয় খুললেও কার্যত তেমন কোন ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। এর কিছুদিন পরই ২০ নভেম্বর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে বহিরাগত ছাত্রলীগ কর্মী সুমন দাস নিহত হন। ২০ নভেম্বর জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ ২ মাস বন্ধ থাকার পর দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই ১৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া হয়। কিন্তু ২০ দলীয় জোটের হরতাল ও অবরোধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় খুললেও কার্যত কোন ক্লাস ও পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। ফলে গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ আছে।
সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা গেছে, এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ থেকে দেড় বছরের সেশনজট লেগেছে। ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে মাস্টার্স শেষ হওয়ার কথা থাকলেও লোকপ্রশাসন, অর্থনীতি, ব্যবসা প্রশাসনসহ কয়েকটি বিভাগের মাস্টার্স এখনো শেষ হয়নি। ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীরা ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে মাস্টার্স শেষ করার কথা থাকলেও এখনো তারা মাস্টার্স প্রথম সেমিস্টারে অধ্যয়ন করছে। ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীরা বর্তমানে মাস্টার্স প্রথম সেমিস্টারে অধ্যয়ন করার কথা। কিন্তু এই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে ৪র্থ বর্ষ ১ম সেমিস্টারে অধ্যয়ন করছে। অন্যান্য ব্যাচেরও একই অবস্থা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের ব্যাচের অধিকাংশ বিভাগের মাস্টার্স ১ বছর আগে শেষ হয়েছে। এমনকি এখন তারা চাকরিও করছে। কিন্তু আমরা এখনো মাস্টার্স ২য় সেমিস্টারে রয়েছি। ব্যবসা প্রশাসন ও অর্থনীতি বিভাগের একাধিক    শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষকদের আন্তরিকতার অভাবেই এই সেশনজট তৈরি হয়েছে। শিক্ষকরা চাইলে অনেক আগেই আমাদের মাস্টার্স শেষ হত।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. আমিনুল হক ভূঁইয়া জানিয়েছেন, সেশনজট দূর করতে সকল অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধানদের নিয়ে বৈঠক করেছি। সেশনজট নিরসনে শিক্ষকদের নির্দেশনা দেয়া আছে। আশা করি খুব দ্রুত এই সেশনজট কমে আসবে।