ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে প্রচার এখন তুঙ্গে। কাউন্সিলর পদে অনেক প্রার্থী ছুটছেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা দলীয় সমর্থন পাওয়ার আশায় নেতাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। অনেক প্রার্থী সামাজিক, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মনোযোগ কাড়ার চেষ্টা করছেন। ভোটাররাও নানা সমস্যার কথা তুলে ধরছে। ৪২ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
পুরান ঢাকার সূত্রাপুর থানার আওতাধীন ৪২ নম্বর ওয়ার্ডটি আগে ছিল ৭৮ নম্বর ওয়ার্ড। কলতাবাজার, লক্ষ্মীবাজার ও দোলাইখাল এলাকা এই ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। এখানে রয়েছে সরকারি কবি নজরুল কলেজ, মহিলা মহানগর কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজসহ বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ওয়ার্ডটিতে নাগরিক সমস্যাও অনেক। এলাকাবাসী প্রতিনিয়ত যেসব সমস্যায় বেশি ভুক্তভোগী তার মধ্যে আছে রিকশাজট, মশার উপদ্রব, পানিতে দুর্গন্ধ, বৃষ্টি হলেই সরু রাস্তার ওপর ড্রেনের নোংরা পানি ছড়িয়ে পড়। নবদ্বীপ বসাক লেনের এক বাসিন্দা বলেন, মাঝে মধ্যে রাস্তায় ড্রেনের পানি উঠে পড়ে। তখন যদি পরিছন্নকর্মী ময়লা নিতে আসতে দেরি করে তবে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। ওই অবস্থায় বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাওয়াটা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
কলতাবাজারের এক বাসিন্দা বলেন, অনেক আগের পুরনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা হওয়ায় তাতে ব্যাপক সমস্যা রয়েছে। সামান্য পানির চাপ হলেই সরু রাস্তার ওপর নোংরা পানি ছড়িয়ে পড়ে। মশার উপদ্রব অনেক বেড়েছে। প্রায় সময়ই গ্যাস থাকে না। ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক কাউন্সিলর ও কলতাবাজার পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি হাজি মো. সেলিম, ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি সাবের আহম্মেদ সাবু ও জাতীয় পার্টির ওয়ার্ড সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন নেওয়াজ।
মো. নাসির উদ্দিন নেওয়াজ বলেন, বর্তমানে ওয়ার্ডে কাউন্সিলর দায়িত্বে না থাকায় এই এলাকা সমস্যায় জর্জরিত। ড্রেনেজ ও পানিতে দুর্গন্ধের সমস্যা অনেক বেশি। নির্বাচিত হতে পারলে ওইসব সমস্যা দূর করতে এলাকাবাসীকে নিয়ে কাজ করব। সাবের আহম্মেদ সাবু বলেন, কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে সব সমস্যা সমাধান করব।
রূপলাল দাস লেন, পাতলাখান লেন, ফরাশগঞ্জ লেন, ফরাশগঞ্জ রোড, উল্টিগঞ্জ লেন, মালাকারটোলা লেন, নর্থ ব্রুক হল লেন, মদনশাহ লেন, ঈশ্বর দাস লেন, হরিশ চন্দ্র বসু স্ট্রিট, প্রতাপ দাস লেন, বি কে দাস লেন, কে জি গুপ্ত লেন, জয়চন্দ্র ঘোষ লেন, প্যারিদাস রোড, গোলাপ সাহা লেন, মোদিনী মোহন দাস লেন, পূর্ণচন্দ্র ব্যানার্জি লেন, রূপচাঁন লেন, মুন্সী হরিমোহন দাস লেন, আনন্দমোহন দাস লেন, শ্রীশ দাস লেন, হেমেন্দ্র দাস লেন, দিরেন্দ্র দাস লেন ও শুকলাল দাস লেন নিয়ে ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত।
এই ওয়ার্ডে রয়েছে বেশ কিছু নাগরিক সমস্যা। এসবের মধ্যে চুরি, ছিনতাই, মাদকদ্রব্য কেনাবেচা ও আবর্জনার গন্ধ মহল্লাবাসীর নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে পড়েছে। বড় রাস্তা না থাকায় সরু গলির ভেতর দিয়ে চলতে গিয়ে নিয়মিত রিকশাজটে আটকা পড়তে হয়। এ ছাড়া দুর্গন্ধময় পানি ও পানি সংকট এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের সমস্যা। নির্বাচন সামনে রেখে এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছে এলাকাবাসী। ফরাশগঞ্জ লেনের এক বাসিন্দা বলেন, করপোরেশনের ময়লার গাড়ি নিয়মিত না এলে পুরো এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া মশার উপদ্রব খুবই বেড়ে গেছে। হালকা বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকায় বন্যার মতো পরিস্থিতি দেখা দেয়।
আরেক বাসিন্দা বলেন, ওয়ার্ডের কিছু রাজনৈতিক ক্ষমতাশালী লোকের আশ্রয়ে একটি মহল নিয়মিত মাদকদ্রব্য বিক্রি করছে। গলির মাথায় অস্থায়ী দোকান বসানোর কারণে রিকশাজট লেগেই থাকছে। কাউন্সিলর প্রার্থী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী সারোয়ার হোসেন বাবু বলেন, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি একটি খেলার মাঠ, একটি কমিউনিটি সেন্টার, পাঠাগার ও ব্যায়ামাগার নির্মাণের। নির্বাচিত হলে এ দাবি পূরণ করার বিষয়ে সবার আগে নজর দেব। আরেক প্রার্থী আরিফ হোসেন ছোটন বলেন, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক বিক্রি, সন্ত্রাস, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ করব। এলাকাকে একটি আধুনিক মডেল ওয়ার্ড হিসাবে গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।
৪২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা হলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন ছোটন, ফয়সাল আহমেদ, কবির উদ্দিন আহমেদ, ইয়ার মোহাম্মদ ইয়াবু, মোহাম্মদ সাইজুদ্দিন, মো.মাহবুব সালাউদ্দিন উজ্জল, মো. ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ ও মো. নাজির উদ্দিন। জানা গেছে, ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ১৭ হাজার ৪৬৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৯ হাজার ১৭০ জন আর মহিলা ৮ হাজার ২৯৭ জন।