বগুড়ায় ঘূর্ণিঝড়ে ১৪ জনের মুত্যু সংবাদ পাওয়া গেছে। শনিবার সন্ধ্যার এই ঝড়ে নিহতের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। দেয়াল চাপা, গাছ ভেঙে ও বজ্রপাতে তারা নিহত হেয়েছেন।
ঝড়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে হলেন- আছিরন বিবি (৫৫), নীলা (৩ মাস), রজব (১৫), পলাশ (১৮), আব্দুল মান্নান (৩৫), রাবেয়া (৬৫), পায়েল (২), শান্তা বেগম (৫০), সুজন (৩০), আজিজুল (১৯), ইসমাইল হোসেন (৩৮), আফজার হোসেন (৬০), ফিরোজা বেওয়া (৫৫) ও সামিয়া (৫২)।
বগুড়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা ১ মিনিট থেকে ৬টা ১৬ মিনিট পর্যন্ত ৯৬ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যায়। ১৫ মিনিট স্থায়ী এই ঝড়ে শহরসহ আশেপাশের এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে যায়।
বগুড়া জেলা প্রশাসক শফিকুর রেজা বিশ্বাস জানান, জেলার সব জায়গায় ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি হলেও গাবতলী, ধুনট ও বগুড়া সদরে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি পরিমান এখনও জানা যায়নি।
IMG0
কালবৈশাখী ঝড়ের আঘাতে বগুড়া শহরসহ আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে কাঁচা ঘরবাড়ি উড়ে গেছে। গাছপালা ভেঙে পড়েছে। গাছের ডাল ভেঙে পড়ে বিদ্যুতের তার ছিড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে বগুড়া শহর ও আশপাশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝড়ে শহরের জিরো পয়েন্ট সাতমাথাসহ জেলার সোনাতলা, ধুনট , সারিয়াকান্দি, কাহালু ও গাবতলীসহ প্রায় সাতটি উপজেলায় টিনের ঘরবাড়ি তছনছ হয়ে যায়। ঝড়ে শহরের বিদ্যুতের তার, ডিস লাইন, টেলিফোন লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বেশকিছু এলাকায় মোবাইলের ফোনের নেটওয়ার্ক টাওয়ার উল্টে পড়েছে।
বগুড়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হযরত আলী জানান, ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় শনিবার রাত থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আরো কতক্ষণ এভাবে জেলা বিদ্যুৎ বিছিন্ন থাকবে সেটিও তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি ।
বগুড়ার বিদ্যুৎ উন্নয়ন র্বোডের ত্বত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হযরত আলী জানান, বগুড়ায় এ ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় এর আগে কখনো হয়নি। বিদ্যুৎ কত সময় পর সচল করা যেতে পারে সে বিষয়ে কিছুই বলা যাচ্ছে না। তবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ সচল করতে কাজ করে যাওয়া হচ্ছে।
বগুড়া পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক পিপিএম জানান, এ পর্যন্ত ১৪ নিহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। জেলায় নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে জেলা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে।