দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৫ জানুয়ারি রাজধানীতে ডাকা সমাবেশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনায় গত ৩ জানুয়ারি রাত থেকে রবিবার সকালে আদালতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান করেন খালেদা জিয়া।
৫ জানুয়ারি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যেতে পুলিশি বাধা পেয়ে গুলশান কার্যালয়ের ফটকের ভেতরেই দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সামনে লাগাতার অবরোধের ডাক দেন তিনি। এরপর কার্যালয়ের সামনে থেকে ইট-বালুর ট্রাক, ভ্যান ও জলকামানসহ অতিরিক্ত পুলিশ সরে গেলেও তিনি কার্যালয় থেকে বের হননি।
গত ১৯ জানুয়ারি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীতেও বের হননি। এর ফাঁকে ২৭ জানুয়ারি ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় এলে তাকে শেষ বিদায় জানাতে কার্যালয়ের দোতলা থেকে নিচে নেমেছিলেন ‘নির্বাক’ বিএনপি চেয়ারপারসন।
এরপর তিন দফায় কূটনীতিকরা তার সঙ্গে ওই কার্যালয়ে বৈঠক করেছেন। এছাড়া ২১ ফেব্রুয়ারি মহান মাতৃভাষা দিবস এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসেও শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে তিনি কার্যালয়ের বাইরে যাননি।
কোকোর মৃত্যুর পর ওই কার্যালয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের যাতায়াত কিছুটা অবাধ হলেও ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ফের ওই কার্যালয়ে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ শুরু করে পুলিশ। সেই সঙ্গে কেটে দেয়া হয় কেবল টিভি ও ইন্টারনেট সংযোগ। মাঝে একবার ওই কার্যালয়ের বিদ্যুত্ সংযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল টানা ১৯ ঘণ্টা। খালেদা জিয়ার খাবার নিয়ে স্বজনদের ঢুকতে দিলেও সেখানে অন্যদের খাবার প্রবেশে পুলিশের কড়াকড়ি থাকে বেশকিছুদিন।
দুই মামলা
২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে অনিয়মের অভিযোগে দুদক ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অন্য মামলাটি দায়ের করে।