ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। উপর্যুপরি হামলায় হুতি জঙ্গিদের অগণিত আস্তানা বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও মোটেও কাবু হচ্ছে না বিদ্রোহীরা। পিছু হটার পরিবর্তে দ্বিগুণ উদ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে!
চলতি সপ্তাহে বিমান হামলা দ্বিগুণ জোরদার করা হয়। বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের ইয়েমেন থেকে উদ্ধার করে নেয়ার জন্য জোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু এয়ারপোর্ট কিংবা নৌবন্দর পুরোপুরি সচল না থাকায় উদ্ধার অভিযান নির্বিঘ্নে চালানো যাচ্ছে না। রাজধানী সানায় আকাশ থেকে ফেলা বোমায় হুতিদের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে সৌদি জোট। তবে হুতিরা বলছে, এসব মিথ্যা কথা। তাদের বিন্দুমাত্র ক্ষতি হয়নি। সদস্যদের দুর্বল করার জন্য সৌদি জোটের পক্ষ থেকে মিথ্যা কথা রটানো হচ্ছে। তারা দাবি করেছে, তাদের জয়যাত্রা অব্যাহত থাকবেই। অর্থাত্ এটা পরিষ্কার যে জঙ্গিরা মোটেও কাবু হয়নি।
তবে সৌদি জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যত দিন পর্যন্ত ইয়েমেন স্থিতিশীল ও নিরাপদ না হচ্ছে, তত দিন সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপ চলবে। শুক্রবার মাঝরাতের পর এডেনের পথে অগ্রসর হওয়া শিয়া হুতিদের একটি কনভয়ে আঘাত হানে সৌদি বাহিনীর যুদ্ধবিমান। শনিবার বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এডেনও। দক্ষিণের ওই বন্দর শহরের একটি অস্ত্রাগারে একাধিক বিস্ফোরণ হয়। শহরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অস্ত্রাগারের বিস্ফোরণ থেকে বেশ কয়েকটি বাড়ি ধূলিসাত্ হয়েছে। বেশিরভাগ সময় আকাশ ছেয়ে থাকছে আগুন ও কালো ধোঁয়ায়। আর যুদ্ধকালীন সময় যেমনটি হয়ে থাকে; শহরে শুরু হয়েছে লুটপাটও। তবে হতাহতের ছবিটা এখনও পরিষ্কার নয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লা অনুগত শিয়া হুতি সমপ্রদায় বনাম প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বো মনসুর হাদির অনুগত সুন্নিদের লড়াই চলছে ইয়েমেনে। তবে প্রায় গোটা দেশেরই দখল এখন হুতিদের হাতে।
বৃহস্পতিবার আকাশে আলো ফোটার আগেই হাদি তথা সুন্নিদের সাহায্যের জন্য ইয়েমেনে বোমাবর্ষণ শুরু করে সৌদি আরব। এই হামলায় সৌদি আরবের পাশে রয়েছে মিশর, জর্ডান, কুয়েতসহ দশটি আরব দেশ।
তবে হুতিদের গোপনে সমর্থন করছে ইরান, এমন অভিযোগ করেছে সৌদি আরব। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ আসলে সৌদি আরব বনাম ইরানের কর্তৃত্ব কায়েমের লড়াই। বৃহস্পতিবারই দেশ ছেড়ে সৌদি আরবে পালিয়েছিলেন হাদি। এ দিন মিশরের শারম আল শেইখ শহরে আরব লিগের শীর্ষ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ইয়েমেনে অস্থিরতা তৈরি করছে ইরান। হুতিরা ইরানেরই হাতের পুতুল।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, পর পর আকাশপথে হামলা সত্ত্বেও এডেনের দিকে অগ্রসর হুতি এবং তাদের সহযোগীদের রোখা সম্ভব হচ্ছে না। এডেন শহর যে কোনও সময় চলে যেতে পারে তাদের কব্জায়। সেখানকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হুতিদের সাঁজোয়া গাড়ি, ট্যাঙ্ক ও সামরিক ট্রাক শাকরা শহর থেকে এগোচ্ছে এডেনের পথে।
শুক্রবারই এডেনের ১০০ কিমি পূর্বে শাকরা শহরে প্রথম পা রেখে ফেলেছে হুতিরা। এ দিন ভোরে সেখানেও বোমাবর্ষণ চালায় জোটের ফাইটার জেট। সৌদি আরবের সরকারি টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, দেশের নৌবাহিনী এডেন থেকে কয়েক ঝাঁক বিদেশি দূতকে উদ্ধার করেছে। জাহাজে চাপিয়ে তাঁদের পৌঁছে দেওয়া হয়েছে লোহিত সাগরে সৌদি বন্দর শহর জেড্ডায়।
জেকে বসেছে আল-কায়েদাও:সৌদি আরবের নেতৃত্বে উপর্যুপরি বিমান হামলা সত্ত্বেও আল-কায়েদা জঙ্গিরা দক্ষিণ-পূর্ব ইয়েমেনের হাদরামওত প্রদেশের একটি কারাগারে আক্রমণ করে ৩০০ জনেরও বেশি কয়েদিকে মুক্ত করেছে। এদের মধ্যে রয়েছে তাদের আঞ্চলিক নেতা খালিদ বাতারফিও। জেলরক্ষীদের সঙ্গে জঙ্গিদের সংঘর্ষে দু’জন রক্ষী এবং পাঁচ কয়েদির মৃত্যু হয়েছে। আল-কায়েদার সবচেয়ে প্রভাবশালী আরব-উপসাগরীয় গোষ্ঠীর নেতা বাতারফি ২০১১-১২ সালে ইয়েমেনের সরকারি সেনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন। সেই সময় জঙ্গিরা ইয়েমেনের দক্ষিণ ও পূর্বের অনেকটাই দখল করে নেয়।