খোঁড়া যুক্তিতে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ

কেনিয়ার গ্যারিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে আল শাবাব জঙ্গি গোষ্ঠী হামলা চালিয়ে ১৪৮ জনকে হত্যার পর শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে গোটা দেশ। দুই বছর আগে শপিং মলে ৬০ জনকে হত্যার পর কেনিয়ার ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় হত্যাযজ্ঞ। গ্যারিসায় সেদিন আল শাবাব জঙ্গিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় অমুসিলমরা। পার্শ্ববর্তী দেশ সোমালিয়ায় জঙ্গিবিরোধী কর্মকাণ্ডে কেনিয়া সরকার সহযোগিতা করছে। তাই কেনিয়া দেশটাই আল-শাবাব জঙ্গিদের কাছে বড় শত্রু! তাই এই দেশের মানুষ হত্যা করে প্রতিশোধ নেয়া ‘জায়েজ’! তবে জঙ্গিরা অন্য দশটা হত্যাকাণ্ডের মতো মসজিদে কিংবা ভিড়ের মধ্যে হামলা চালিয়ে গণহারে মুসলমান মারেনি। এবার বেছে বেছে খৃস্টান ধর্মের মানুষ মেরেছে।
 
জঙ্গিরা বেছে বেছে মুসলিম শিক্ষার্থীদের মুক্ত করে দিয়ে অমুসলিমদের গুলি করে হত্যা করে। জঙ্গিরা প্রথমেই শিক্ষার্থীদের পোশাক দেখে তাদের দুই গ্রুপে ভাগ করে ফেলে। এরপর মুসলিম শিক্ষার্থীদের মুক্ত করে দিলেও খ্রিস্টানদের একেবারে কাছে থেকে গুলি করে হত্যা করে। শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগকেই হত্যা করা হয় মাথার পেছনে গুলি করে। ক্যাম্পাসে ঢুকেই শিক্ষার্থীদের মাথা নিচু করে মাটিতে শুয়ে পড়তে বলে জঙ্গিরা।
 
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রথমে ক্যাম্পাসের একটি উপাসনালয়ে হামলা চালায় জঙ্গিরা। সেখান থেকে তারা ক্যাম্পাসে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালাতে থাকে। পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। সব জায়গায় গোলাগুলি চলছিলো। জিম্মি করার পরই তারা আমাদের মেঝেতে শুয়ে পড়তে বলে। সেখান থেকে অনেকে পালিয়ে যেতে সমর্থ হয়।
 
গ্যারিসা কাউন্টির গভর্নর নাদিফ জামা বলেছেন, আল শাবাব জঙ্গিরা সোমালিয়াতে মুসলিম এবং সোমালি সবাইকেই হত্যা করে। সেখানে তারা কোন বৈষম্য করে না; কিন্তু তারা সীমান্ত পার হয়ে কেনিয়াতে এসে অমুসলিমদের হত্যা করে কৌশলে মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করল। এটা তাদের প্রতারণামূলক এবং শয়তানি মস্তিষ্কের ভণ্ডামি। তারা কেনিয়ার মুসলিম এবং অমুসলিমদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে ফায়দা নিতে চায়। তবে তারা ধ্বংসযজ্ঞ ছাড়া কিছুই করতে পারবে না। তাদের এই হামলার বিরুদ্ধে আমরা একজোট হয়েই প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।
 
এদিকে জঙ্গিরা বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীকে বেছে বেছে হত্যা করলেও নাগরিকরা কিন্তু একযোগে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-ঘৃণা প্রকাশ করছে। এক মুসলিম নাগরিক নৃশংস এবং জঘন্য এই হামলার প্রতিবাদ করতে গিয়ে তার প্ল্যাকার্ডে লিখেছেন, আমি কেনিয়ান, আমি মুসলিম। আমি আল শাবাবের বিরোধী।
 
চার বছর আগে ইসলামী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সোমালিয়ায় সেনা পাঠিয়েছিলো কেনিয়া। আল শাবাবের অভিযোগ, এরপর থেকে কেনিয়ার সেনারা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা এবং দক্ষিণ সোমালিয়ায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা চালাচ্ছে। ঐ সব হামলার জবাব দিতেই কেনিয়ায় হামলা চালানো হচ্ছে এবং আরো হামলা চালানোর হুমকি দেয়া হচ্ছে। কেনিয়ানদের উদ্দেশে এক বিবৃতিতে আল শাবাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, তোমাদের সরকার আমাদের মুসলিম ভাইদের হত্যা করা বন্ধ না করলে এবং কেনিয়ার মুসলিম অঞ্চলকে যতদিন স্বাধীন করতে না পারি ততদিন এ ধরনের হামলা চালিয়ে যাবো।