রাজশাহীতে ভাইয়ের হাতে ২ সহোদর খুন

রাজশাহীতে ছোট ভাইয়ের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দুই সহোদর খুন হয়েছেন। রবিবার দিবাগত গভীর রাতের এই ঘটনায় একই পরিবারের দুই নারীসহ আরো চারজন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন, কাদিরগঞ্জের মৃত আফসার আলীর ছেলে সাদিকুল ইমলাম (৫০) ও মেয়ে আক্তার জাহান কল্পনা (৪৫)। আহতরা হলেন, আফসার আলীর ছেলে মনিরুল ইসলাম (৫০), মনিরুলের মেয়ে উম্মে কুলসুম (২০), ছেলে নিয়ামত উদ্দিন (২০) ও নিহত সাদেকুলের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৪৫)। তাদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তরিকুলকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
পুলিশ জানায়, আফসার আলীর মৃত্যুর পর তার জমি ভাগবাটোয়ারা নিয়ে তরিকুলের সঙ্গে অন্যান্য ছেলে-মেয়েদের দ্বন্দ্ব চলছিল। এরই জের ধরে রবিবার দিবাগত গভীর রাতে তরিকুল তার সহোদর সাদিকুলকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে সাবল ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করছিল। এ সময় বোন আক্তার জাহান কল্পনাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ঘুম থেকে জেগে উঠে সাদিকুলকে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে তরিকুল ধারালো অস্ত্র ও সাবল দিয়ে সবাইকে এলাপাতাড়ি আঘাত করে। পরে এলাকার লোকজন এগিয়ে এসে তরিকুলকে গণপিটুনি দিয়ে আটকে রেখে বোয়ালিয়া মডেল থানায় খবর দেয়। এ সময় তারা আহত সাদিকুল, কল্পনা, মনিরুল, কুলসুম, নিয়ামত ও জাহানারাকে রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাদিকুল ও কল্পনাকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরে পুলিশ তরিকুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এলাকার লোকজনের সহায়তায় তরিকুলকে আটক করা হয়েছে। গণপিটুনিতে আহত হওয়ায় তরিকুলকেও পুলিশ হেফাজতে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।