কালুরঘাট সড়কের পাশেই মোহরা ওয়ার্ড। দেড়লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা ৫৮ হাজার। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ একটি ওয়ার্ডের বাসিন্দা হলেও মোহরার বাসিন্দারা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে খুব একটা আন্তরিকতার পরিচয় দেননি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। নির্বাচন পূর্ববর্তী আশ্বাসের অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়নি বলে তারা জানান। এলাকায় অল্পবৃষ্টিতেই দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। খোলা নালায় জমে থাকা আবর্জনায় জন্ম নেয় মশা। দেড়লাখ মানুষের জন্য ওয়ার্ডে একটি আধুনিক হাসপাতাল নেই। একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও সেখানে শুধু প্রাথমিক চিকিত্সাই পাচ্ছেন এলাকাবাসী। তাই আধুনিক চিকিত্সার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যেতে বাধ্য হচ্ছেন মোহরাবাসী। এলাকায় বেশ কয়েকটি স্কুল, কলেজ থাকলেও বিনোদনের জন্য কোনো পার্ক বা খেলার মাঠ নেই।
গ্রীষ্মকালে লোড শেডিংয়ের কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় মোহরাবাসিন্দাদের। বিদ্যুত্ ও গ্যাস সংকটে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানকে লোকসান গুনতে হচ্ছে। মোহরায় একটি গণশৌচাগার পর্যন্ত নেই, খাবার পানির জন্য সরকারি উদ্যোগে কোনো নলকূপও স্থাপন করা হয়নি গত পাঁচ বছরে। অর্ধেক বাসাবাড়িতে রান্নার জন্য গ্যাস সুবিধা নেই। তাই উচ্চদামের সিলিন্ডার গ্যাসই এলাকাবাসীর ভরসা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এখানকার ওয়ার্ড অফিস নিয়েও রয়েছে দ্বন্দ্ব। দলীয় গ্রুপিংয়ের কারণে ওয়ার্ড অফিসও দুটি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একটি ওয়ার্ড কার্যালয় সাবেক নগরপিতা এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী সমর্থিত, অন্যটি বর্তমান সিডিএ চেয়ারম্যান আব্দুচ ছালাম সমর্থিত।
মোহরা ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন মোট সাত প্রার্থী। এরা হলেন: সদ্য বিদায়ী কাউন্সিলর বিএনপি সমর্থিত মো. আযম, (সর্বশেষ খবর অনুযায়ী মো. আযমের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।) স্বতন্ত্র প্রার্থী ওলিদ চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সালাম, ছাত্রসেনা সমর্থিত মোরশেদুল আলম, সফিকুর রহমান, মো. হাসেম ও দুলাল।