মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকর করার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জামায়াতের তরফ থেকে দুই দিনের টানা হরতাল ডাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরো বেশি করে জোর দেয়া হয়েছে। পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি সারাদেশে বিজিবি মোতায়েন থাকছে। প্রস্তুত থাকছে র্যাবের হেলিকপ্টার। আদালতের রায়ের পর থেকেই জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত জেলাগুলোতে কর্ডন পদ্ধতিতে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান চলছে।
এদিকে যুদ্ধাপরাধ মামলার সংশ্লিষ্ট বিচারক, আইনজীবী, সাক্ষী, প্রসিকিউটর এবং ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ব্যক্তির নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
সোমবার সকালে যুদ্ধাপরাধ মামলায় কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদন খারিজ করে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। এর প্রতিবাদে জামায়াত মঙ্গলবার ও বুধবার সারাদেশে ৪৮ ঘন্টার হরতালের ডাক দেয়।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্ব বিবেচনা করেও অনেক জায়গায় বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা থাকছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা তত্পরতাও। যেকোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলমী হরতালের ডাক দেয়ার পর থেকেই সারাদেশে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়। বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারকে ঘিরে। কারাগারের চারদিকে অন্তত ৫০টি উচু ভবনের ছাদে বসানো হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। কারাগারের চারদিকে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আশপাশের রাস্তাগুলোতে যানবাহন চলাচলের উপর বিধি নিষেধও আরোপ করা হয়েছে। প্রতিটির রাস্তার মোড়ে বাড়তি চেকপোষ্ট বসিয়ে তল্লাশী চলছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও বস্তুতে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে দফায় দফায় তল্লাশী চালানো হচ্ছে। অযাচিত ব্যক্তি ও যানবাহন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারগারের আশপাশে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার রয়েছে। পাশাপাশি নানা ধরণের বাড়তি সর্তকতামূলক ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখার প্রতিবাদে ডাকা হরতালে জামায়াত-শিবির তাদের প্রভাব থাকা জেলাগুলোতে আবারও তান্ডব চালাতে পারে। এজন্য রায় বহাল রাখার ঘোষণার পর পরই যশোর, সাতক্ষীরা, রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, চাপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, কক্সবাজার, শেরপুর, চট্টগ্রাম, পাবনা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, ব্রাক্ষ্মবাড়িয়াসহ জামায়াত-শিবিরের প্রভাব থাকা জেলাগুলোতে ব্লক রেইড পদ্ধতিতে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান চলছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি। র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মাহমুদ খান বলেন, কামারুজ্জামানের রিট খারিজ এবং সে উপলক্ষ্যে সারাদেশে জামায়াতের ডাকা দুই দিনের হরতাল মাথায় রেখেই সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে হেলিকপ্টার। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ব্যক্তিরও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।