ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই সম্ভাব্য প্রার্থীদের ছোটাছুটি বাড়ছে। সেই সুযোগে প্রার্থীদের কাছে নিজেদের নাগরিক ভোগান্তির কথা তুলে ধরছে ভোটাররা। প্রার্থীরাও দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সরেজমিন চিত্রে নাগরিক ভোগান্তির নানা চিত্র উঠে এসেছে।
বিশেষ করে পুরান ঢাকায় দুর্ভোগের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। জলাবদ্ধতা সমস্যার পাশাপাশি এলাকার অধিকাংশ রাস্তা-গলিপথে ল্যাম্পপোস্টে বাতি নেই। ফলে স্থানীয়রা থাকেন নিরাপত্তা ঝুঁকিতে। দিনের পর দিন এভাবে চললেও অবস্থা বদলের পদক্ষেপ নেই কর্তৃপক্ষের।
বংশাল, কেপি ঘোষ ষ্ট্রিট, কসাইটুলী, গোবিন্দ্র দাস লেন, সৈয়দ হাসান আলী লেন, পিকে রায় লেন, হাজী আবদুর রশীদ লেন, রায় বাহাদুর ঈশ্বর চন্দ্র ঘোষ ষ্ট্রিট, কাজী জিয়া উদ্দীন রোড, সামসাবাদ লেন, শাহাজাদা মিয়া লেন, গোপী নাথ দত্ত কবিরাজ ষ্ট্রিট ও হরণী ষ্ট্রিট, বাগদাসা লেন ঘুরে দেখা যায় ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা একদমই অকেজো। ভারি বর্ষণের ফলে রাস্তায় পানি জমে যায়। ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ভেসে উঠে। এছাড়া অধিকাংশ গলিপথে ল্যাম্পপোস্ট থাকলেও তাতে বাতি দেখা যায়নি। বংশাল রোড এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ লাইন উপচে হাঁটু পানি হওয়ার জন্য অল্প বৃষ্টিই যথেষ্ট। ঢাকনা খুলে রাখলেও লাইনের পানি সরে না বরং মলমূত্র ভেসে ওঠে।
পাতলাখান লেনের এক বাসিন্দা বলেন, বৃষ্টি হলেই এমনভাবে পানি জমে যে, মনে হয় নৌকা চালানো যাবে। ময়লা পানির মধ্য দিয়ে পার হওয়ার সময় অনেকেই স্যুয়ারেজের খোলা মুখে পা ফেলে বিপদে পড়েন। অনেকে আহতও হন। রিকশা বা অন্য হাল্কা যানের চাকা স্যুয়ারেজের খোলা মুখে পড়ে উল্টেও যায়।
বাগদাসা লেনের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, গলিপথে স্বল্প আলো থাকায় চলাচলকারীর অনেকেই ছিনতাইয়ের কবলে পড়েন। রাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। আছে মাদকের ছড়াছড়ি।
এ ব্যাপারে কাউন্সিলর প্রার্থী মো.হাফিজুর রহমান মন্টু মিয়া বলেন, নির্বাচিত হলে প্রশাসনের সহায়তায় মাদক সমস্যার সমাধান করবো। স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরানুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, তার এলাকায় পানি সংকট দীর্ঘদিনের। দুর্গন্ধযুক্ত পানি সাংসারিক কোন কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বিএনপি সমর্থিত অপর প্রার্থী মো. হায়দার আলী বাবলা বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে সমস্যার সমাধান করবেন। অপর প্রার্থী জাকির হোসেন রণি ভোটারদের দোয়া ও সহযোগিতা চেয়েছেন।