চৌমুহনীর ঐতিহ্যবাহী খালগুলো বিলুপ্তির পথে

শত বছরের বাণিজ্যিক ঐতিহ্যের ধারক-বাহক চৌমহনী শহরের উপর দিয়ে প্রবাহিত খালগুলোর অস্তিত্ব দখলকারীদের গ্রাসে প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার পথে।
 
চৌমুহনী শহরের উপর দিয়ে প্রবাহিত চারটি খাল বড় পুলের নিকট স্থানকে কেন্দ্র করে চৌমুহনীর নামকরণ হয়। দেশের নদী বন্দর চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ, ভৈরবসহ বিভিন্ন বন্দরের সাথে খালের মাধ্যমে সরাসরি নৌ যোগাযোগ ছিল। মালবোঝাই করে বড় বড় নৌকা শহরের ছয়টি নৌকা ঘাটে এসে ভিড়ত। স্বাধীনতার কয়েক বছর পর থেকে জবরদখলকারীরা খালগুলো দুই পাড় দিয়ে ভরাট করে দোকানপাট এমনকি বহুতল ভবন নির্মাণ করা শুরু করে। পর্যায়ক্রমে খালগুলো নালায় পরিণত হয়। নৌকাঘাটগুলোও দখল হয়ে যায়। বর্তমানে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা আবর্জনা এনে খালে ফেলার ফলে ১৫০-২০০ ফুট চওড়া খালগুলোও ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
 
আবর্জনা দুর্গন্ধ ও মশার বংশ বিস্তারের ফলে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। তাছাড়া খাল ভরাট হওয়ায় বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় বেগমগঞ্জে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে বেগমগঞ্জে আউশ ও আমন ফসল হয় না।
 
শুধু চৌমুহনী শহরেই খাল ভরাট নয়, বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জ, ছয়ানী, জমিদার হাট, কাজির হাট, সেতুভাঙ্গা, গোপালপুর বাজার, মজুমদার হাট, বাংলা বাজার, রমজান বিবি বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে পাইকারী হারে খাল ভরাট করে দোকান পাট পাকা ভবন নির্মাণের ফলে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় ভূমি দপ্তর ও পানি উন্নয়ন বিভাগ এবং প্রশাসনের চোখের উপর জবর দখল নিত্যদিন ঘটতে থাকলেও এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
 
এ ব্যাপারে বেগমগঞ্জ ভূমি অফিসের সাথে যোগাযোগ করলে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের প্রয়োজন। তাছাড়া অর্থ বরাদ্দেরও ব্যাপার রয়েছে।