আওয়ামী লীগের ইস্যু স্থানীয় রাজনীতি, বিএনপির জাতীয়

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ নির্বাচনী প্রচারণায় স্থানীয় ইস্যুকে প্রাধান্য দিলেও বিএনপি জাতীয় রাজনৈতিক বক্তব্যকে মাঠে নিয়ে এসেছে। নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিন প্রধান দুই দলের প্রার্থিগণ সরাসরি প্রচারণায় না নামলেও তাদের পক্ষে নেতৃবৃন্দ প্রচারণা শুরু করেছেন। তবে গতকাল বুধবার থেকে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী আ.জ.ম নাছির উদ্দিন আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সদ্য বিদায়ী মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম আগামীকাল শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করবেন বলে জানান।

আ.জ.ম নাছির উদ্দিনের সমর্থনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ইতিমধ্যে বিএনপি প্রার্থীর বিগত সময়ে দায়িত্ব পালনকালের ব্যর্থতা ও দুর্বলতাকে তুলে ধরছেন। এমনকি মেয়র থাকাকালীন মঞ্জুর আলমের কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেন তারা।
অপরদিকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এম মনজুর আলমের পক্ষে প্রচারণায় নেমে বিএনপি নেতৃবৃন্দ বর্তমান সরকারের সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন। নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সিটি নির্বাচনে নীরব বিপ্লব ঘটবে গুম-খুনের বিরুদ্ধে। সিটি নির্বাচনে বিএনপির বিজয় মানে শেখ হাসিনার পরাজয়।
মেয়র প্রার্থী আ.জ.ম নাছির উদ্দিন দলের সব নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান। তিনি বলেন, এটা দলের জন্য প্রেস্টিজ ইস্যু। বিজয়ের বিকল্প নেই। গত মঙ্গলবার মহিলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বক্তব্য রাখেন।
অপরদিকে একইদিন ২০ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএনপি প্রার্থী মনজুর আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা প্রমাণের বড় সুযোগ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। একইসাথে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রভাবমুক্ত এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানান মনজুর আলম।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে এবং দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ একই সাথে প্রত্যেক ওয়ার্ডে দলের সমর্থিত একক প্রার্থী    নির্বাচনেও চেষ্টা চালাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে একটি টিম নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করে একক কাউন্সিলর প্রার্থী করার ব্যাপারে চেষ্টা চালাচ্ছেন। একইসঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে দলের প্রার্থীর পক্ষে ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনার আহবান জানানো হয়।

অন্যদিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রতিনিয়ত বৈঠক করে প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা দিচ্ছেন বলে জানা যায়। বিএনপি নেতৃবৃন্দ স্থানীয় ২০ দলীয় জোটের অন্যান্য শরিক দল বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছেন বলে জানা যায়। তাদেরও মেয়র প্রার্থীর পক্ষে মাঠে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত করতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে তাদের ১০ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে সমর্থন জানানো হয়েছে বলে জানা যায়।