ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার হরিদেবপুর ও সদর উপজেলার চাপড়ি গ্রামে সৌর বিদ্যুতে এবারই প্রথম সেচ পাম্প চলছে। এনজিও এইড ৪টি প্রজেক্টের আওতায় সৌর বিদ্যুতের প্যানেলগুলো বসিয়েছে।
হরিদেবপুরের বোরো মৌসুমে সেচ খরচ অনেক বেশি পড়তো। শ্যালো মেশিনে সেচ দিতে বিঘা ব্যয় হতো প্রায় ৮ হাজার টাকা। ডিজেলচালিত সেচপাম্প দিয়ে পানি সেচ ছিলো ব্যয়বহুল। চাষিরা গ্রামে কৃষি উন্নয়ন সমিতি গঠন করে সোলার বিদ্যুত্ চালিত সেচপাম্প স্থাপনের জন্য সহায়তা কামনা করে।
এইডের উদ্যোগে দু’টি প্রকল্প তৈরি করে গতবছরের ১৫ নভেম্বর থেকে সোলার প্যানেল বসানোর কাজ শুরু হয়। দুটি সোলার সেচ প্লান্ট স্থাপনে ব্যয় হয়েছে ৭৪ লাখ টাকা। হরিদেবপুরে দুটি সোলার সেচ প্লান্টে ১৬২টি সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। এতে ৩৬ দশমিক ৮ কিলোওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন হচ্ছে। এ বিদ্যুত্ দিয়ে দুটি গভীর নলকূপ চলছে। প্রতিদিন দুটি গভীর নলকূপ থেকে ২৪ লাখ লিটার সেচের পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। আর একশ’ বিঘা বোরো ধানের জমিতে সেচ চলছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চাপড়ি গ্রামে স্থাপিত সোলার সেচ প্লান্ট স্থাপনে ব্যয় হয়েছে ৬১ লাখ টাকা। দুটি প্লান্টে ১২৮টি সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। বিদ্যুত্ উত্পাদন হচ্ছে ৩৮ দশমিক ৮ কিলোওয়াট। এখানেও দুটি গভীর নলকূপ চলছে। প্রতিদিন ২৪ লাখ লিটার সেচের পানি উত্তোলন হচ্ছে।
এখানেও একশ’ বিঘা জমি সৌর বিদ্যুতে সেচ পাচ্ছে। সৌর বিদ্যুতের সুবিধা হচ্ছে একবার স্থাপন করলে অনেকদিন ব্যবহার করা যায়। জ্বালানি ব্যয় নেই। বোরো মৌসুমে আকাশ মেঘমুক্ত থাকায় সৌর বিদ্যুত্ উত্পাদনের সমস্যা হয় না। এ চারটি প্লান্ট থেকে চাষি ডিজেলচালিত পাম্পের চেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে সেচ পাচ্ছে। হরিদেবপুরে বিঘাপ্রতি ৫ হাজার টাকা এবং চাপড়িতে বিঘাপ্রতি সাড়ে ৫ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে। চাষির ৩ হাজার টাকা সাশ্রয় হচ্ছে বলে তারা জানায়।