বরগুনায় টিনের ছাপড়ায় চলছে এইচএসসি পরীক্ষা

ভবন সঙ্কটের কারণে বরগুনার তালতলীর নূরজাহান বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে খোলা মাঠে টিনের ছাপড়া ও পর্দা টানিয়ে নেয়া হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা। কালবৈশাখী ঝড় কিংবা গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহসহ সকল ধরনের প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে এ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের। ফলে কেউ কেউ শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
 
পরীক্ষা কেন্দ্র সুপার এমএ জব্বার জানান, তালতলী ডিগ্রী কলেজ, ড. শহিদুল ইসলাম কলেজ এবং তালতলী স্কুল এন্ড কলেজের ৪৩০ জন পরীক্ষার্থী এ বছর ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে। এদের মধ্যে ভবন সঙ্কটের কারণে ১৬০ জন পরীক্ষার্থীকে টিনের ছাপড়ার ভিতর বসিয়ে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, অনেকটা ঝুঁকির মধ্যেই এসব পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে। একই পদ্ধতিতে ২০১০ সাল থেকে এ কেন্দ্রে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
 
সোমবার বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা চলাকালীন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিনের ছাপড়ার নিচে প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পরীক্ষার্থীরা হাঁপিয়ে উঠেছেন।
 
পরীক্ষার্থী সোহাগ হাওলাদার বলেন, মাথার মাত্র একহাত উপরে টিনের ছাপড়া দেয়া হয়েছে। রৌদ্রের প্রচণ্ড তাপে শরীর, হাত, পা ঘামিয়ে কলম পিচ্ছিল হয়ে যায়। এমনকি ঘামে পরীক্ষার খাতা পর্যন্ত ভিজে যায়, তাই পরীক্ষা দিতে খুবই সমস্যা হচ্ছে। অন্য দুই পরীক্ষার্থী, রুমা আক্তার ও কিবরিয়া বলেন, একটানা ৩-৪ ঘন্টা টিনের ছাপড়ার নিচে থাকার কারণে প্রচণ্ড গরমে শরীর থেকে প্রচুর ঘাম ঝড়ছে। এতে শরীর অবসন্ন হয়ে যায়, ফলে ঠিকভাবে পরীক্ষার খাতায় লেখা সম্ভব হয় না। তাদের দাবী এ পরিবেশ পরীক্ষার ফলাফলে অনেকটা প্রভাব পড়বে। 
  
অভিভাবক জলিল হাওলাদার বলেন, এর আগে একেবারে খোলা মাঠে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। এ বছর তবুও টিনের ছাপড়া দেয়া হয়েছে। এভাবে পরীক্ষা নিলে ছেলে-মেয়েদের দ্বারা ভাল ফলাফল আশা করা যায় না। একই কথা জানান, অভিভাবক শাহিনুর বেগমসহ অনেকে।
 
পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তালতলী ডিগ্রী কলেজ অধ্যক্ষ মো. হারুন-অর রশিদ বলেন, পরীক্ষা নেয়ার জন্য তালতলীতে অন্যকোন ভাল ভেন্যু না থাকায় এ স্কুলে পরীক্ষা কেন্দ্র করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, স্কুলটি এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি ফলে একাডেমিক ভবনেরও কোন উন্নতি হচ্ছে না।
 
বরগুনার জেলা প্রশাসক মীর জহুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে খোঁজ-খবর নিয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, এ উপজেলার এইচএসসি পরীক্ষার জন্য নূরজাহান বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় একমাত্র  কেন্দ্র।