কালবৈশাখীতে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুত্পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি

বগুড়ায় ভয়াবহ ঝড়ের ৩ দিন পার হলেও বিদ্যুত্ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বিদ্যুত্ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরো এক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ওই ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুত্ বিভাগের ক্ষতি হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। শত শত বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ে থাকায় বিদ্যুত্ সরবরাহ স্বাভাবিক করা যাচ্ছে না। রবিবার সন্ধ্যা থেকে শহরের কিছু অংশে বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হলেও বেশিরভাগ এলাকা রয়েছে এখনও অন্ধকারে। শহরে আংশিক বিদ্যুত্ সরবরাহ থাকলেও গ্রাম এলাকায় অবস্থা আরো নাজুক।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় কাল বৈশাখি ঝড়ে বগুড়া শহর এবং তার আশেপাশে শত শত  বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাতীয় গ্রীড থেকে সরবরাহ করা বিদ্যুত্ লাইনের ৫টি খুঁটিও পড়ে গিয়েছিল। ৩০ শতাংশ এলাকায় মেরামত কাজ শেষে  বিদ্যুত্ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে । বিদ্যুত্ বিভাগের কর্মীরা দিনরাত কাজ করছেন ।

 
বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আগামী ২ দিনের  মধ্যে পুরো শহর এলাকায় বিদ্যুত্ সরবরাহ করা গেলেও শহরতলীসহ গ্রাম এবং উপজেলা পর্যায়ে ৭ দিনের আগে স্বাভাবিক হবে না। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
 
বগুড়া বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হযরত আলী জানিয়েছেন, শহরের ৩০ ভাগ  অংশে বিদু্যুত্ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হলেও শহর এলাকায় বিদ্যুত্ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে আরো ২ দিন লাগবে।
 
অপরদিকে বগুড়া পল্লবিদ্যুত্ সমিতির জিএম (মহাব্যবস্থাপক) মো. সামসুদ্দিন জানিয়েছেন, তাদের মোট  ৩ লাখ ৯২ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ২০ ভাগের কাছে বিদ্যুত্ পৌঁছানো হয়েছে। গ্রাম পর্যায়ে বিদ্যুত্ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে আরো ৮/১০ দিন সময় লাগবে।
 
বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. খোরশেদ আলম জানান, সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের তত্পরতা অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৫০ মেট্রিক টন চাল ও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
 
রাজশাহীতে ফের কালবৈশাখীর হানা
রাজশাহী অফিস জানায়, রাজশাহীতে দু’দিনের ব্যবধানে আবারো আঘাত হেনেছে মৌসুমের দ্বিতীয় কালবৈশাখী। সঙ্গে ছিলো বজ্র ও শিলাবৃষ্টি।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার পর থেকে শুরু ঝড়-বৃষ্টি থেমে থেমে চলে রাত প্রায় ৯টা পর্যন্ত। এদিকে ঝড়-বৃষ্টিতে নগরীর বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু কাঁচা ঘরবাড়ি ও অস্থায়ী অবকাঠামো। এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় আম ও লিচুসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে তাত্ক্ষণিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তর।
 
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক রাজিব খান বলেন, রাজশাহীতে কালবৈশাখী আঘাত হেনেছে বিকেল ৪টা ৪৭ মিনিটে। চলে বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ছিলো ঘন্টায় ৬২ কিলোমিটার। এর আগে-পরে প্রায় আধঘন্টা ধরে বয়েছে ঝড়ো হাওয়া।
এদিকে রাজশাহী বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফেরদৌস আলম বলেন, ঝড়ে বিভিন্ন জায়গার সঞ্চালন লাইনের ওপর আস্ত গাছ উপড়ে পড়ায় বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। রাত সাড়ে ৯টার পর বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হয়।