বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিনকে আদালতে হাজির করা নিয়ে জারিকৃত রুলের শুনানি শেষ হেয়েছে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী এবং বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি শেষে ১৫ এপ্রিল রায়ের জন্য দিন নির্ধকারণ করা হয়।
গত ১০ মার্চ সালাহউদ্দিনকে উত্তরার একটি বাড়ি থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে যায় বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
পরে তার অনুসন্ধান চেয়ে স্ত্রী হাসিনা আহমেদ হাইকোর্টে একটি আবেদন দায়ের করেন। ওই আবেদনের ওপর হাইকোর্ট রুল জারি করে।
রুলের জবাবে বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আদালতে হলফনামা দাখিল করে বলা হয়, তারা সালাহউদ্দিন আহমেদকে আটক করেনি।
রুল শুনানিতে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, পত্রিকায় রিপোর্ট এসেছে ওই বাড়ির কেয়ারটেকার বলেছেন, যারা সালাহউদ্দিনকে ধরে নিয়ে যায় তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ বলে পরিচয় দিয়েছে। সালাহউদ্দিনকে তুলে নেয়ার আগে ৭ মার্চ তার গাড়ির চালক ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ওসমান, সোহাগ ও খোকনকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করে। পরে তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে বের করা হয় সালাহউদ্দিন কোথায় আছে।
মওদুদ আহমদ ১৯৭৪ সালে রক্ষীবাহিনীর হাতে শাহজাহান শরীফ নামে এক তরুণের আটক ও পরে অস্বীকার এবং এ নিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিষয়টি উত্থাপন করে বলেন, বিচারপতি দেবেশ ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই রায় ঘোষণা করেছিল।
শাহজাহান শরীফকে আটকের কথা রক্ষীবাহিনী প্রথমে স্বীকার করলেও পরে অস্বীকার করে। এ নিয়ে হেবিয়াস কর্পাস আবেদন দায়ের করা হলে হাইকোর্ট রক্ষীবাহিনীর প্রধানকে তলব করে। আইনজীবীরা চারদিন তাকে জেরা করেন। হাইকোর্ট ওই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল।
গতকাল রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোমতাজ উদ্দিন ফকির বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কোনো বাহিনী সালাহউদ্দিন আহমেদকে আটক করেনি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তার অনুসন্ধানে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। আদালতের রুল অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।