জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ (শিপ রিসাইক্লিং) শিল্প বাংলাদেশে লোহা ও স্টিলের চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ শিল্প থেকে স্থানীয়ভাবে উত্পাদিত জাহাজের জন্য স্টিল প্লেট ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ করার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণে অদক্ষ জনবলের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। উদীয়মান এ শিল্পখাতের অপার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হংকং কনভেনশন অনুযায়ী এর কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি হ্রাসে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন। ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) এবং নোরাডের সহায়তায় শিল্প মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শিল্পসচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এতে প্রধান অতিথি ছিলেন।
প্রকল্পের জাতীয় পরিচালক ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বেগম ইয়াসমিন সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বেগম পরাগ, ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের প্রকল্প বিষয়ক প্রধান জোস মেথিক্যাল, প্রকল্প সমন্বয়ক সিমন লেয়ার্স, বেসেল, রটারডেম ও স্টকহোম কনভেনশনস্ সচিবালয়ের প্রতিনিধি সুসান উইংফিল্ড বাংলাদেশ শিপব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাত। বিশ্ব অর্থনীতিতে এর অবদান দিন দিন বাড়ছে। এ শিল্পের বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ থাকলেও পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এটি পরিবেশবান্ধব সবুজ শিল্প হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। তারা এখাতে কর্মরত জনবলের স্বাস্থ্যগত ঝুিঁক মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধির যথাযথ অনুসরণ ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে জাহাজ ভাঙার ওপর গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশে এ প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমে আসবে বলে তারা মন্তব্য করেন।