মাঠে একক প্রার্থী রাখতে পারলো না আওয়ামী লীগ

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কপোরেশন নির্বাচনে মাঠে একক কাউন্সিলর প্রার্থী রাখতে পারলো না আওয়ামী লীগ। দলের নির্দেশ অমান্য করে সমর্থন প্রত্যাশী অনেক প্রার্থীই মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদনপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেননি। এ কারণে প্রতিটি ওয়ার্ডেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি। কাউন্সিলর পদে প্রতি ওয়ার্ডে গড়ে তিন জন করে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। একই সঙ্গে দল সমর্থিত একক প্রার্থীও থাকছেন। গড়ে প্রতি ওয়ার্ডে ৫ জন করে আওয়ামী লীগের সমর্থন প্রত্যাশী ছিলেন। বুধবার একক প্রার্থীর তালিকা ঘোষণার পর গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতি ওয়ার্ডে গড়ে দুই জন আওয়ামী লীগের সমর্থন প্রত্যাশী প্রার্থী দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদনপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছেন।
 
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কাউন্সিলর পদে সাধারণ আসন ৫৭ টি, সংরক্ষিত ১৯টি। উত্তরে এই সংখ্যা যথাক্রমে ৩৬ ও ১২। মোট ১২৫টি ওয়ার্ডে গড়ে ৫ জন করে ৬২৫ জন আওয়ামী লীগের সমর্থন প্রত্যাশী ছিলেন। এরমধ্যে ২ শ’ জন প্রার্থী আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আবেদনপত্র নির্বাচন কমিশনে গিয়ে জমা দিয়েছেন।  জানা গেছে, দল সমর্থিত একক প্রার্থী মাঠে রাখতে প্রতি ওয়ার্ডে সমর্থন না পাওয়া কাউন্সিলর প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে নির্দেশ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু সে নির্দেশকে তোয়াক্কা করেননি বেশিরভাগ প্রার্থী। ফলে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ছড়াছড়িতে কিছুটা বেকায়দায় রয়েছে দলটি।
 
সূত্র জানায়, গত দুই দিন ধরে বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের সরে দাঁড়াতে প্রত্যাহারপত্রে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছিল। এতে কেউ কেউ স্বাক্ষর করলেও বেশিরভাগই বিষয়টি আমলে নেননি। বরং বিক্ষুব্ধ কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কার্যালয়ে গিয়ে এ ব্যাপারে নানা অভিযোগ করেন। বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী জানান,  নিষ্ক্রিয়, বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে এমন নেতা, এমনকি দুর্নামে জড়িতদের কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন দেয়া হয়েছে। দলের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসাবে তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন।