বিনাশুল্কে অস্থায়ী ট্রানজিটের আওতায় ৩৫ ‘হাজার টন চালের মধ্যে ৩য় দফায় এবার অবশিষ্ট ২৫ হাজার টন চাল ত্রিপুরায় নেয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় এক হাজার টন চাল পাঠানো শেষ হয়েছে। গত বুধবার রাতে ৯৬৭ টন চাল নিয়ে কলকাতা থেকে এমভি সান মেরিনো নামে একটি জাহাজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌ-বন্দরে নোঙ্গর করে। জাহাজ থেকে চালের বস্তা কাভার্ডভ্যানে খালাস শুরু হয়েছে।
শনিবার আশুগঞ্জ নৌ বন্দর থেকে প্রায় ৫‘শ টন চাল নিয়ে ৩০টি কাভার্ডভ্যান আখাউড়া স্থল বন্দর হয়ে ত্রিপুরার আগরতলা পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
নৌ-বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ জানুয়ারি নৌ-মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৩৫ হাজার টন চালের মধ্যে অবশিষ্ট ২৫ হাজার টন চাল ১৯৭২ সালের নৌ-প্রটোকলের আওতায় অস্থায়ী ট্রানজিটের মাধ্যমে ত্রিপুরায় পরিবহনের অনুমতি দেয়া হয়।
গত বছরের আগস্ট ও অক্টোবর মাসে দুই দফায় ১০ হাজার টন চাল নেয়া হয়েছে। সে মোতাবেক তৃতীয় দফায় আরো ২৫ হাজার টন চাল ত্রিপুরায় নেয়ার অংশ হিসাবে প্রায় এক হাজার টন চাল নিয়ে এমভি নিউ টেক-৬ কলকাতা নৌ-বন্দর থেকে গত ২৮ মার্চ আশুগঞ্জ নৌ-বন্দরে পৌঁছে। কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কাভার্ড ভ্যানে এসব চাল ত্রিপুরায় পৌঁছানোর পর গত বুধবার রাতে দ্বিতীয় জাহাজটি আরো প্রায় এক হাজার টন চাল নিয়ে আশুগঞ্জ নৌ-বন্দরে আসে। এই চাল পরিবহনের কাজ করছেন বাংলাদেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আন বিজ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড। বাংলাদেশের ৪শ' কিলোমিটার নৌপথ, ৫০ কিলোমিটার সড়কপথ, আশুগঞ্জ নৌ-বন্দর ও আখাউড়া স্থলবন্দর ব্যবহার করলেও দু'দেশের মধ্যে বিদ্যমান নৌ-প্রটোকল চুক্তির আওতায় চাল পরিবহনে মাশুল নেয়া হচ্ছে না। শুধু মাত্র প্রতি মেট্রিক টন চাল ৩০ টাকা হারে ল্যান্ডিং চার্জ এবং নৌ-বন্দরে জাহাজ অবস্থানের জন্য দৈনিক ১৬০ টাকা করে বার্থিং চার্জ নেয়া হচ্ছে।
আশুগঞ্জ নৌ বন্দরের পরিদর্শক শাহ আলম জানান ৯৬৭ টন ভারতীয় চালবাহী এমভি সান মেরিনো জাহাজ থেকে কাভার্ড ভ্যানে পণ্য খালাস শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ৩০টি কাভার্ড ভ্যানে চাল ভর্তি করে রাখা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে চাল ভারতের ত্রিপুরায় যাবে।
আশুগঞ্জ থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু জাফর জানান, প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রিপুরার আগরতলা সীমান্তে চালবাহী কাভার্ডভ্যানগুলো পৌঁছে দেয়া হবে।