‘কে কত দ্রুত নির্মাণ শেষ করতে পারে সেই প্রতিযোগিতা চলছে’

 
সাক্ষাত্কার
দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে টিভি নাটক, মঞ্চ নাটক ও চলচ্চিত্র তিন মাধ্যমেই সমানভাবে কাজ করে চলেছেন তিনি। নিজের বর্তমান কাজ, টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রের নানা বিষয় নিয়ে সম্প্রতি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন দিব্যজ্যোতি দত্ত
 
এখনকার ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাই।
এখন বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক নাটকে কাজ করছি। কাজ করছি চন্দা মেহজাবিনের ‘শোনে না সে শোনে না’, অঞ্জন আইচের ‘সাপলুডু’ ও ‘রুপকথার মা’, এহসান আহমেদের ‘নীলাম্বরী’সহ বেশ কয়েকটি ধারাবাহিকে। এছাড়া কিছু এক ঘণ্টার নাটকেও কাজ করছি। এখন এসব কাজ নিয়েই ব্যস্ত আছি।
 
নতুন কোন চলচ্চিত্রে কাজ করছেন?
প্রসূন রহমানের ‘সুতপার ঠিকানা’ ও লুসি তৃপ্তি গোমেজের ‘ডাকঘর’ ছবির কাজ শেষ। খুব শিগগিরই হয়তো ছবিগুলো মুক্তি পাবে। এছাড়া আরও কয়েকটি ছবিতে কাজ শুরু করব। ছবিগুলো হচ্ছে জায়েদ সিদ্দিকীর ‘প্রিয়ম্বদা বলছি’, জিত্ দের ‘মাতৃভূমি’ এবং আবু সাইয়ীদের ‘ড্রেসিং টেবিল’।
 
প্রযুক্তির আধুনিকায়নের সুবিধা আমরা কতটা নিতে পারছি?
প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়ার জন্যও একটা ভালো বাজেটের প্রয়োজন। কিন্তু এখন ছোট-বড় দুই পর্দাতেই ভালো বাজেটের কাজ তেমন হচ্ছে কি? নাটকে নামমাত্র বাজেটে কাজ হচ্ছে। ২৫ লাখ টাকায় ছবি হচ্ছে। এই বাজেটে প্রযুক্তির আর কী সুবিধাই বা নেওয়া সম্ভব! তাই যারা এই কাজগুলো করেন তাদের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আমরা কিছুই করতে পারছি না।
 
শিল্পীরা একাধিক নাটকে একই সাথে কাজ করছেন। ফলে নাটকগুলোতে তাদের চরিত্র নিয়ে ভাবার কতটা সময় পাচ্ছেন?
চরিত্র নিয়ে ভাবার সময় পাচ্ছেন না শিল্পীরা। আগে এমনও দিন আমরা পার করেছি যখন একটি নাটকের পিছনে আমরা ৭ দিন বা তারও বেশি সময় দিয়েছি। আর এখন নির্মাতারা যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করতে পারলেই যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে পারেন। আর এই অবস্থায় শিল্পীরাও কেবল দৌড়েই যাচ্ছেন। চরিত্র নিয়ে ভাবার সময় তারা পাচ্ছেন না।
 
বলা হচ্ছে, চ্যানেল সংখ্যা বাড়ায় নাটকের প্রতিযোগিতাও বেড়েছে।
হ্যাঁ, চ্যানেল সংখ্যা বাড়ায় নাটকের প্রতিযোগিতা বেড়েছে। তবে কে কত দ্রুত নির্মাণ শেষ করতে পারে সেই প্রতিযোগিতাই চলছে। এই প্রতিযোগিতায় ভালো কিছু আশা করা কঠিন। যদি কাজের মানের প্রতিযোগিতা হতো তবে তা আমাদের নাটকের জন্য মঙ্গলজনক হতো। কিন্তু দ্রুত নির্মাণের এই প্রতিযোগিতায় আমরা ভালো কিছু পারছি না। অবশ্য এসব কিছুর পেছনেই কলকাঠি নাড়ছে বাজেট। আমি মনে করি, নাটকের বাজেট বাড়ালে অনেক সমস্যারই সমাধান হয়ে যাবে।
 
নাটকের সংলাপ আগের মতো জনপ্রিয়তা পায় না কেন?
এখন টিভি নাটক দেখছেই বা ক’জন যে নাটকের সংলাপ জনপ্রিয়তা পাবে? আমি নিজেই টিভিতে শুধু সংবাদ দেখি। টিভি নাটক দেখা হয় না। আসলে দেখতে ইচ্ছাও করে না। কারণ নাটকের মাঝে এত বেশি বিজ্ঞাপন প্রচার হয়, নাটক দেখার আগ্রহ নষ্ট হয়ে যায়। যার ফলে দর্শক এখন ভারতীয় সিরিয়াল দেখছে। এসব সিরিয়ালের সংলাপ মানুষের মুখস্থ হচ্ছে। আমাদের কোনো লাভ হচ্ছে না। আগেও বিটিভিতে যখন এক ঘণ্টার নাটক প্রচার হতো তখনো বিজ্ঞাপন প্রচার হতো। কিন্তু তা অতিরিক্ত ছিল না। কিন্তু এখন অতিরিক্ত পর্যায়ে চলে গেছে। আমি মনে করি বিজ্ঞাপন অবশ্যই প্রচার হবে। কিন্তু বিজ্ঞাপন প্রচারের একটা সুনির্দিষ্ট বিন্যাস থাকা খুবই প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
 
নতুন শিল্পীদের অভিনয়ের প্রতি নিবেদন কতটা?
নতুনদের সম্পর্কে ভালো কথাই বলব। তারা ভালো কাজ করছে।