অবৈধ উপায়ে অর্থপাচার ঠেকাতে গত বছর রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ট্রান্সফার প্রাইসিং সেল গঠন করলেও নানামুখী কারণে তাতে গতি আসেনি। অবশেষে এই সেলে বাড়তি জনবল নিয়োগের মাধ্যমে ওই সেলকে শক্তিশালী করার কাজ শুরু হলো। সম্প্রতি এনবিআর সাতজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে এই সেলে নতুন করে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা এখন বহুজাতিক কোম্পানিসহ স্থানীয় বড় কোম্পানির ট্রান্সফার প্রাইসিংয়ের নামে অর্থ পাচার রোধে কার্যক্রম শুরু করবেন।
এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) যুগ্ম কমিশনার ড. এ কে এম আতিকুল হক ছাড়াও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) যুগ্ম পরিচালক মো. শাব্বির আহমদ, ড. মো. নুরুল আমিন, উপ-পরিচালক মোল্লা সালেহীন সিরাজ, আতাউল হক, সহকারী কর কমিশনার ফারজানা নাজনীন ও বেগম ইফফাত জাহানকে ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
ট্রান্সফার প্রাইসিংয়ের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে বড় আকারের অর্থ পাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগ রয়েছে, বিশেষত বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এ উপায়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে অর্থপাচার করে। এ ধরনের কোন কোম্পানি অন্যদেশে তার সহযোগী কোম্পনির সাথে ক্রয়-বিক্রয়ের নামে অর্থ সরিয়ে থাকে। একাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুযায়ী, ট্রান্সফার প্রাইসিংয়ের নামে বাংলাদেশ থেকেই প্রতি বছর প্রায় ১৫ হাজার কোট টাকা পাচার হয়।
দীর্ঘ আলোচনার পর গত ২০১২ সালের অর্থবিলে ট্রান্সফার প্রাইসিংয়ের বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করা হয়। কিন্তু দক্ষ জনবলের অভাবে এ কার্যক্রম সময়মত শুরু করা যায় নি। তবে বেশ কিছু কর্মকর্তাকে দীর্ঘদিন প্রশিক্ষণ দেয়ার পর গত বছরের শুরুতে ট্রান্সফার প্রাইসিং সেল গঠন করা হয়। এনবিআর সদস্য পারভেজ ইকবালকে ওই সেলের প্রধান আর সাব্বির আহমদকে সমন্বয়কের দায়িত্ব দেয়া হয়। ওই সেল গঠন হওয়ার পর শুরুতেই ট্রান্সফার প্রাইসিং অফিসার (টিপিও) নিয়োগের কথা থাকলেও গত একবছরের বেশি সময় তা ঝুলে ছিল। অবশেষে এসব কর্মকর্তাকে এই সেলে টিপিও’র দায়িত্ব দেয়া হলো।
নানা উপায়ে ট্রান্সফার প্রাইসিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সরানো যায়। ২০১২ সালের অর্থবিল অনুযায়ী, কোন অর্থবছরে একটি বহুজাতিক কোম্পানির সহযোগি কোম্পানিতে ৩ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হলে তা তদন্তের আওতায় আনা হবে।