দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র এবং নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে মিসরে ব্রাদারহুডের প্রধান মোহাম্মেদ বাদির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। বাদির সাথে আরো ১৩ জন শীর্ষ ব্রাদারহুড নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।
একই অভিযোগে আদালত মিসরীয় বংশোদ্ভূত এক মার্কিন নাগরিক এবং ৩৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে।
এদিন আদালতের বিচার কাজ টেলিভিশনে সরাসরি সমপ্রচার করা হয়। বিচার চলার সময় বিবাদীদের কেউ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। খবর বিবিসি’র।
গতকাল তাদের বিরুদ্ধে আদালত যে রায় দিয়েছে তার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন তারা। কারাবন্দী বাদির বিরুদ্ধে আরো ৪০টি মামলা চলছে। ২০১৩ সালে ব্রাদারহুড নেতা মোহাম্মদ মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত শতাধিক ব্রাদারহুড নেতার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। যদিও এখন পর্যন্ত শুধু একজনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। মুসলিম ব্রাদারহুড নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১৩ সালে মুরসি বিরোধী আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন অভিযান চালিয়েছেন তারা। দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য তাদের ভূমিকা ছিলো বলেও অভিযোগ করা হয়।
বাদির এক আইনজীবী মোহাম্মেদ আব্দেল মাওয়াগড রায়ের নিন্দা করে বলেন, আদালত বিবাদীদের মধ্যে কোন পার্থক্য না করে একই কাতারে সবার বিচার করেছে। মিসরের এই বিচার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক বলেও অনেকে সমালোচনা করে আসছেন। তবে এই বিচার ব্যবস্থাকে সরকার নিরপেক্ষ বলেই দাবি করে আসছে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশের একটি পুলিশ স্টেশনে হামলার অভিযোগে গত বছর মিসরের একটি আদালত বাদিকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও পরবর্তীতে ঐ আদেশ প্রত্যাহার করে পুন:বিচারের আদেশ দেয়া হয়। মিসরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক মোহাম্মদ সুলতানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে ব্রাদারহুডকে সমর্থন এবং মিথ্যা তথ্য সরবরাহের কারণে।