শীতলক্ষ্যার পানি এখন দুর্গন্ধময়

 
নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি উপজেলার শতাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠানে নেই ইটিপি। কয়েকশ’ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন করা হলেও সেগুলোও ঠিকমতো চলছে না। একবছরে পরিবেশ অধিদফতর প্রায় ৪ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করলেও থামছে না দূষণ। ইটিপি মনিটরিং করতে গিয়ে বাধার মুখেও পড়তে হচ্ছে পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের। 
 
একসময়ে শীতলক্ষ্যার পানি ব্রিটিশ বেনিয়ারা বোতলজাত করে বিলেতে নিয়ে যেত, সেই শীতলক্ষ্যার পানি এখন দুর্গন্ধময়।
 
ঐতিহ্যবাহী শীতলক্ষ্যার পাড় দিয়ে হাঁটতে হলে নাকে রুমাল ছাড়া হাঁটা যায় না। পানিতে জীববৈচিত্র্যের জন্য ন্যূনতম ৪ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম অক্সিজেন থাকার কথা থাকলেও শীতলক্ষ্যাতে রয়েছে মাত্র দশমিক ৫ মিলিগ্রাম। বর্ষাকালে কিছুটা বেড়ে ২ মিলিগ্রাম হয়ে থাকে। বিভিন্ন শিল্প বর্জ্যের কারণে দেশের দ্বিতীয় দূষিত নদী হিসাবে চিহ্নিত শীতলক্ষ্যা এখন মৃতপ্রায়। সরকারি চাপে যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ইটিপি রয়েছে তা নামেমাত্র।
 
নিয়মিত ইটিপি ব্যবহার করা হয় না। পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজনের উপস্থিতি টের পেলেই ইটিপি চালু করা হয়। অন্যথ্যায় নদীর তীরের প্রায় সব শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্যই শীতলক্ষ্যাতে ফেলা হয়।
 
পরিবেশ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে ৩৪৭টি তরল বর্জ্য নির্গমনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে কিছু সরাসরি ও কিছু ড্রেনের মাধ্যমে বর্জ্য নির্গমন করে। যা শীতলক্ষ্যায় এসেই পড়ছে। এর মধ্যে ১৫২টি প্রতিষ্ঠানে ইটিপি নির্মাণ করা হয়েছে।
 
৪৮টি প্রতিষ্ঠানে কিছু নির্মাণাধীন রয়েছে। ইটিপি নেই এমন শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১০৭টি। পরিবেশ অধিদফতর সূত্র জানায়, গত একবছরে পরিবেশ দূষণের দায়ে নারায়ণগঞ্জের ১০৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করেছে পরিবেশ অধিদফতর। পরিবেশ অধিদফতর নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপ-পরিচালক মুজাহিদুল ইসলাম জানান, ইটিপি না থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর কিছু আদালত থেকে ৬ মাস বা ১ বছর সময় নিয়েছে।

উপ-পরিচালক আরো জানান, নারায়ণগঞ্জ শিল্প বাণিজ্যের নগরী হলেও প্রয়োজনের তুলনায় জনবল অত্যন্ত কম। মাত্র ৭জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। তার উপর সন্ধ্যার পরে অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করা যায় না। এর আগে পরিবেশ অধিদফতরের এক কর্মকর্তাকে আটক রাখার মতো ঘটনাও ঘটেছে।