ঝুঁকিমুক্ত গর্ভপাতের জন্য গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় বাজারস্থ বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বানেছা বেগম (৩৩)।
পায়ে হেঁটে অপারেশন থিয়েটারে যান বানেছা বেগম। ৩০ মিনিটের অস্ত্রোপচারের পর খবর আসে সন্তান প্রসবের সময় বানেছার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত বানেছার ছোট ভাই অভিযোগ করেন, ডাক্তারের ভুল অপারেশন ও ক্লিনিকের অব্যবস্থাপনার জন্যই তার বোনের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি অদক্ষ ডাক্তার ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের শাস্তি দাবি করেন। এর আগে একই ক্লিনিকে উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নের পিঁপলা গ্রামের মকদোম মোল্লার মেয়ে মেরিনার মৃত্যু হয় ডাক্তারের অপচিকিত্সায়।
ক্লিনিক মালিকরা দাবি করেন, ক্লিনিকে আসা রোগীদের সাধ্যমতো চিকিত্সা সেবা দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া সরকারি অনুমোদন নিয়েই ক্লিনিক পরিচালনা করা হচ্ছে। ক্লিনিকের অব্যবস্থাপনা ও ডাক্তারের ভুল চিকিত্সার ব্যাপারে কিছু বলতে রাজি নন তারা।
বিধি অনুযায়ী একটি বেসরকারি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য সার্বক্ষণিক একজন সার্জারী চিকিত্সকসহ তিন জন সিনিয়র স্টাফ নার্স থাকা বাধ্যতামূলক। অথচ এসব হাসপাতালগুলোতে ডাক্তার নেই, নেই প্রশিক্ষিত সেবিকাও। নিয়ম বহির্ভূতভাবে স্বাস্থ্য সেবার নামে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে বাণিজ্য।
ডাক্তারের ভুল চিকিত্সা ও অপারেশনের ফলে প্রায়ই রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে ভুয়া প্যাথলজিষ্ট দিয়ে যাবতীয় প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করানো হচ্ছে। এতে করে সঠিক রোগ নির্ণয়ের নামে চলছে বাণিজ্য। এসব হাসপাতালে গিয়ে সার্জারী চিকিত্সক ও সিনিয়র স্টাফ নার্স পাওয়া যায়নি।
গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে ক্লিনিকগুলো পরিচালিত হচ্ছে। ফলে এসব ক্লিনিকে দক্ষ ডাক্তার, সেবিকা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ হওয়ায় রোগী মৃত্যুর ঘটনা বেশি ঘটছে।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ইয়াছমিন আক্তার বলেন, ক্লিনিকগুলোর অব্যবস্থাপনার কথা শুনেছি। এজন্য নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।