ঢাকা উত্তর সিটির ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডে আগে কমিশনার ছিলেন বিএনপির আবদুল মজিদ। তবে এবার কাউন্সিলর পদে লড়ছেন না তিনি। আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি তৈমুর রেজা খোকন। মীরবাগ, নয়াটোলা, নয়াটোলা উত্তর, মধুবাগ, টিঅ্যান্ডটি কলোনি, বাগানবাড়ি এলাকা নিয়ে সাবেক এই ওয়ার্ড। আগে এটি ছিল ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড।
ভোটার সংখ্যা ৪৫ হাজার ২৬৪ জন। পুরুষ ভোটার ২২ হাজার ৮৬৪ জন এবং নারী ভোটার ২২ হাজার ৪০০ জন। এই ওয়ার্ডের ভোটারদের প্রত্যাশা নাগরিক সমস্যা থাকবে না। আর এসব অঙ্গীকার যেসব প্রার্থী দিচ্ছেন ভোটারদের রায় তাদের পক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
এই ওয়ার্ডে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ১৩ জন। এদের মধ্যে ৬ জন ইতোমধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ৭ জন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন- তৈমুর রেজা (ঘুড়ি), বড়ুয়া মনোজিত ধীমন (ট্রাক্টর), মাওলানা সালেহ সিদ্দিকী (লাটিম), মোঃ ইসলাম চৌধুরী আজাদ (রেডিও), মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান (ব্যাডমিন্টন র্যাকেড), মোঃ সালাহ উদ্দিন (ঠেলাগাড়ি), সাজেদা আলী হেলেন (ঝুড়ি)।
ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত এলাকাবাসী। ওয়ার্ডের বেশিরভাগ সড়ক খানাখন্দে ভরা। দীর্ঘদিন সংস্কার করা হয়নি। গলির রাস্তাগুলো অনেকটা ব্যবহারের অনুপযোগী। অবাধে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে রাস্তার ওপর। নির্দিষ্ট কোনো ডাস্টবিন নেই। পরিচ্ছন্নকর্মীদের তত্পরতা চোখে পড়ে না অভিযোগ এলাকাবাসীর।
মীরবাগের বাসিন্দা আব্দুস সালাম জানান, টিঅ্যান্ডটি স্কুলের সামনে ডাস্টবিন। একটি স্কুলের পাশে ডাস্টবিন কেন থাকতে হবে এটা আমার বোধগম্য নয়। নিয়মিত মশার ওষুধ দেয়া হয় না। ফলে মশার উত্পাতে নাগরিক জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
সমস্যার আরেক নাম জলাবদ্ধতা। বৃষ্টির দিনে সৃষ্টি হয় চরম দুর্ভোগ। নোংরা পানিতে ভেসে যায় রাস্তাঘাট। মধুবাগ ঝিলপাড় মোড়ে পানি জমে। ওয়্যারলেস গেট থেকে মীরবাগের রাস্তায় জলাবদ্ধতা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ থাকলেও মিলছে না কোনো সুরাহা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নয়। নতুন নেশা ইয়াবায় আক্রান্ত হচ্ছে যুবসমাজ। এছাড়া মদ, ফেনসিডিল, গাঁজার প্রভাব চরমে। বেশ কয়েকটি গ্রুপের অধীনে চলে মাদক ব্যবসাসহ চাঁদাবাজি। বিভিন্ন সময়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করেও কোনো ফল পায়নি। তাই এখন হাল ছেড়ে দিয়েছেন।
কাউন্সিলর প্রার্থী তৈমুর রেজা বলেন, ভাঙাচোরা রাস্তা, জলাবদ্ধতা সমস্যা, সুপেয় পানি ও গ্যাস সংকট থেকে মুক্তি দিতে চাই ওয়ার্ডবাসীকে। নির্বাচিত হলে সকলকে সঙ্গে নিয়ে এসব সমস্যার সমাধান করবো।
আরেক প্রার্থী মোঃ সালাহ উদ্দিন বলেন, চুরি, ছিনতাই, বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং মাদকের সহজলভ্যতা ওয়ার্ডের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবো।
নির্বাচিত হলে এলাকার জন্য কী করবেন জানতে চাইলে প্রার্থী সাজেদা আলী হেলেন বলেন, এই এলাকাকে ঢাকা শহরের মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলব। সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।