সমান সুযোগ চান আনিসুল অস্ত্র উদ্ধারের দাবি তাবিথের

আসন্ন তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ চেয়েছেন ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনিসুল হক। একই সাথে ভোটের সময় সেনা মোতায়েনে অন্য প্রার্থীদের দাবির প্রতিও তিনি সমর্থন জানিয়েছেন। গতকাল রবিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনের মেয়র, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর এবং সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) মতবিনিময় সভায় তিনি এ দাবি ও সমর্থন জানান।

 

আজ ঢাকা দক্ষিণের প্রার্থীদের সাথে একই স্থানে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। এদিকে প্রার্থীদের দাবি-অভিযোগের বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে জানিয়ে সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে অযথা কোনো প্রার্থীকে হয়রানি না করার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্বাচনে  অস্বচ্ছতার কোনো সুযোগ নেই। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। আগামী ১৯ তারিখের বৈঠকের পরে সেনাবাহিনী নামবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো যাবে।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিইসি বলেন, বর্তমানে ছবিসহ ভোটার তালিকা রয়েছে। এ ব্যবস্থায় ভুয়া ভোটার এবং জালভোট দেয়ার সুযোগ নেই। ভোটগ্রহণের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষক, সাংবাদিক এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। একইভাবে কেন্দ্রওয়ারি ফলাফল তাত্ক্ষণিক প্রকাশ করা হয়।
 
তিনি বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আগামী ১৯ তারিখের বৈঠকের পরে সেনাবাহিনী নামবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো যাবে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠুু ও নিরপেক্ষ করার জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। ইতোমধ্যেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আরও বাড়ানো হবে। দৃঢ়তা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে ভোটগ্রহণের সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান সিইসি।
 
নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক বলেন, প্রার্থীদের ঢালাও অভিযোগ না করে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করা উচিত।
 
কমিশনার আবু হাফিজ বলেন, নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ তৈরির দায়িত্ব ইসির ওপরে না চাপিয়ে আপনারা নিজেরাই সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করবেন এটিই আপনাদের (প্রার্থীদের) দায়িত্ব।
কমিশনার ব্রি. জে. (অব.) জাবেদ আলী বলেন, ইসি সবার সহযোগিতায় একটা অনুসরণীয় নির্বাচন করতে চায়। অপর কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা ইসির একার পক্ষে সম্ভব নয়, সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
 
ডিএমপি কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আচরণবিধির লঙ্ঘন আমরা হতে দেব না। প্রার্থী এবং তার এজেন্টরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেউ ভোটারদের বল-প্রয়োগের মাধ্যমে ভোটদানে বাধ্য করার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে। এমনকি কোনো প্রার্থী নিরাপত্তাহীনতায় থাকলে পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। 
 
ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আনিসুল হক বলেন, প্রত্যেক প্রার্থী চায় সবার জন্য সমান সুযোগ। সকলের মতো আমারও দাবি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হোক। আশা করি কমিশন সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে। মেয়র প্রার্থী ফজলে বারী মাসউদসহ কয়েকজন প্রার্থীর সেনা মোতায়েনের দাবির প্রতিও সমর্থন জানান তিনি। তবে মিলনায়তনের বাইরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সিটি নির্বাচনে সেনা মোতায়েন চাই না।
 
বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেন, তার দলের ও আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের যেসব প্রার্থী ও নেতা-কর্মী কারাগারে আটক আছেন এবং যারা আত্মগোপনে রয়েছেন তাদের জামিনের ব্যবস্থা করতে হবে। ভয়ের পরিবেশ দূর করতে হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ডিএমপিকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সাথে বৈধ অস্ত্রধারীদের অস্ত্র দ্রুত সময়ের মধ্যে থানায় জমা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
 
মেয়র প্রার্থী মাহী বি. চৌধুরী বলেন, ভোটার প্রতি ২ টাকা খরচ হবে। বিত্তশালী মেয়র প্রার্থীরা এর বাইরেও খরচ করছেন কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য কমিশনকে অনুরোধ করছি।
 
ইসির কাজে সমন্বয়হীনতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন মেয়র প্রার্থী অভিনেতা নাদের চৌধুরী।
 
জোনায়েদ সাকী বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থাকে গণতান্ত্রিক করার জন্য এই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। কিন্তু এখনো তার কোনো সুফল ইসির দিক থেকে দেখতে পাইনি।
 
আবদুল্লাহ আল ক্বাফী ডিএমপি কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকলে অযথা কাউকে হয়রানি করবেন না। কামরুল ইসলাম নির্বাচনে কালো টাকার ছড়াছড়ি বন্ধের আহ্বান জানান। বাহাউদ্দীন বাবলু বলেন, নির্বাচন কমিশন মুখে যা বলেন, কাজেও যেন তাই করেন।
 
গণমাধ্যমের প্রতি ক্ষোভ
 
কয়েকজন মেয়র প্রার্থী গণমাধ্যমের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছেন। মেয়র প্রার্থী আনিসুজ্জামান খোকন বলেন, গণমাধ্যম দুই জন প্রার্থীকে নিয়ে ব্যস্ত। আমাকে ঘরে-বাইরে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে যে, তুমি কিসের মেয়র প্রার্থী একদিনও তোমার ছবি ও নাম পত্রিকা ও টেলিভিশনে দেখতে পেলাম না। আরেক প্রার্থী বলেন, আমাদের বক্তব্য প্রেসরিলিজ আকারে গণমাধ্যমে পাঠালেও তা প্রকাশ করা হয় না।
এমপিরা প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন!
 
মতবিনিময় সভায় কয়েকজন কাউন্সিলর অভিযোগ করেন, স্থানীয় এমপিরা স্কুল-কলেজগুলোর কমিটির সভাপতি। এ সুযোগে তারা কলেজের অধ্যক্ষ-শিক্ষক ও পছন্দের প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক করছেন। এটি নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগের পরিবেশ নষ্ট করছে।
 
এদিকে মেয়র প্রার্থীদের বক্তব্যের পর সাধারণ ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিলরদের বক্তব্য শুরু হয়। কিন্তু সকলকে বক্তব্যের সুযোগ দিতে না পারায় থেমে থেমে কয়েকবার হট্টগোল তৈরি হয় মিলনায়তনে।
ঢাকা উত্তর সিটির রিটার্নিং অফিসের উদ্যোগে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার মো. শাহ আলম। সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন থানা নির্বাচন কর্মকর্তা ফারহানা ফাতেমা।

 

উত্তর সিটিতে মেয়র পদে ১৬ জন, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৮৯ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৮০ জনসহ মোট ৩৮৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।