প্রশিক্ষণ নারীকে স্বাবলম্বী করে

অধ্যাপক বেগম মমতাজ বেগম একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতনের শিকার নারীদের পুনর্বাসনের জন্য বিচারপতি এম সোবাহানের নেতৃত্বে ‘নারী পুনর্বাসন বোর্ড’ গঠন করেন। বেগম মমতাজ বেগম ঐ বোর্ডের সদস্য পরিচালক ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন ও আইন বিষয়ে পড়াশুনা করেন। জীবনের বেশ কিছু সময় তিনি শিক্ষকতার সাথে জড়িত ছিলেন। গতবছর রোকেয়া পদকে ভূষিত হন তিনি। ২০১৩ সালের ১১ মার্চ জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব পান। ২০১৫ সালের ১১ মার্চ তার কার্য মেয়াদ দুই বছর বৃদ্ধি করা হয়। অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন প্রকল্পে নানা কার্যক্রম বিষয়ে মহিলা অঙ্গনের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
 
নারীদের প্রশিক্ষণ—
 
জাতীয় মহিলা সংস্থা থেকে ইন্টেরিয়র ডিজাইন, ফ্যাশন ডিজাইন, বিউটিফিকেশন, ক্যাটারিং, পটারি ও বিজনেস ম্যানেজম্যান্ট ট্রেনিং দেয়া হয়।এই প্রশিক্ষণগুলোর মধ্যে বিজনেস ম্যানেজম্যান্ট এর মেয়াদ ৩০ দিন। অন্যগুলোর মেয়াদ ৬৫ দিন। ইন্টেরিয়র ডিজাইন, ফ্যাশন ডিজাইন ও বিজনেস ম্যানেজম্যান্ট এর ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাস অন্য প্রশিক্ষণের জন্য অষ্টম শ্রেণী পাস হলেই চলে। আর সকল ক্ষেত্রে বয়সের সীমা ১৮ হতে ৪৫ বছর পর্যন্ত। প্রতিটি বিষয় ২৫ প্রশিক্ষণার্থী।
 
 
প্রশিক্ষণার্থীদের ঋণ সহায়তা—
 
যখন তারা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তখন তাদের ৫০ টাকা করে যাতায়াত ভাড়া দেয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে প্রয়োজন অনুসারে তাদের ৫ হাজার টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়া হয়। এই পর্যায়ে আমরা ৭ হাজার ৭৪৬ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি।
 
 
প্রশিক্ষণ ও ঋণ কতটুকু সহায়ক—
 
আমি বলবো অনেক মেয়ের ভাগ্য বদলে দেয় এই ট্রেনিং। বিয়ের পরে কিংবা অল্প পড়াশুনা করে মেয়েরা যখন ঘরে বসে কিছু করার চিন্তা করে কোন পথ পায় না। তখন বিশেষ সহযোগিতা করে ট্রেনিং এবং সামন্য এই ঋণ। তারা আত্মবিশ্বাসী হয়। নিজের টাকায় উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখে ও স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে। এক কথায় টেনিং প্রাপ্ত দক্ষতা তাদের স্বাবলম্বী ও সমৃদ্ধ করে। এখন সমাজ অনেক বদলে গেছে। একজনের আয়ে আর সংসার চলে না। তাই মেয়েদের বিয়ের ক্ষেত্রে উপার্জনক্ষম নারীর গুরুত্ব বাড়ছে। শ্বশুর বাড়ির মানুষ মেয়েদের আয় করা মেনে নিচ্ছেন।
 
 
 
যেসব প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছি—
 
আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। অনগ্রসর মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য যুদ্ধ করি। যুদ্ধোত্তর দেশে পুনর্বাসনের কাজে অংশ নেই। শিক্ষাদানকেও পেশা হিসেবে নিয়েছি। মানুষের জন্য কিছু করার সুযোগ আছে সে কাজকে আনন্দের সাথে গ্রহণ করেছি। কাজ করে দক্ষতা নারীকেই প্রমাণ করতে হয়। এবছর ১১ মার্চ আমার দায়িত্ব শেষ হওয়া কথা। তার আগেই আমি বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে জানাই। মন্ত্রণালয় পুনরায় আমাকে দায়িত্ব প্রদান করে। এরই মধ্যে একটি বহুল প্রচারিত দৈনিক আমাকে নিয়ে প্রতিবেদন করে— আমি দায়িত্বে না থেকেও পদ ধরে  রাখি। কোন কিছু তোয়াক্কা করি না। বিষয়টি আমাকে আহত করে। আমার মনে হয় গণমাধ্যমে এমন প্রতিবেদনের বিষয়ে আরও বেশি সত্যনিষ্ট হওয়া জরুরি।