কর্পোরেট কর কমানোর প্রস্তাব ফরেন ইনভেস্টর চেম্বারের

আসছে বাজেটে কোম্পানির কর্পোরেট করহার কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ফিকি)। সেই সঙ্গে বিদ্যমান ব্যক্তি করদাতাদের ওপর করের বোঝা না চাপিয়ে করের আওতা বাড়ানো, করমুক্ত আয়সীমা ২ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা করা ও শিল্পের ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর বিদ্যমান ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। 
সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত প্রাক বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ফিকি’র প্রেসিডেন্ট রূপালী চৌধুরী এ প্রস্তাব দেন। এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, সদস্য ফরিদ উদ্দীন ছাড়াও ফিকির প্রতিনিধি ও বহুজাতিক কোম্পানির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। 
রূপালী চৌধুরী প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাম্প্রতিক বাজেটের উদাহরণ টেনে বলেন, আগামী চার বছরে সেখানে কর্পোরেট করহার ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে। গত বছর দেশের শেয়ারবাজারে নিবন্ধিত নয় এমন কোম্পানির করহার আড়াই শতাংশ কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়েছিল। তবে এটি ভারতের ন্যায় ধীরে ধীরে নামিয়ে আনার সুদূরপ্রসারী চিন্তা করতে হবে। সেক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকেও করের আওতায় আনা যাবে। এ লক্ষ্যে নিবন্ধিত, অনিবন্ধিত ও মোবাইল ফোন কোম্পানির করের হার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে।
এছাড়া লাভ-লোকসান নির্বিশেষে কোম্পানির আয়ের উপর দশমিক ৩০ শতাংশ হারে করের বাধ্যবাধকতা বাতিল করা, কর সংক্রান্ত কোন মতানৈক্য হলে হাইকোর্টে রেফারেন্স মামলা করার ক্ষেত্রে দাবিকৃত করের ২৫ শতাংশ দেয়ার বিধান বাতিল করাসহ আয়কর, ভ্যাট, শুল্ক ও অন্যান্য বিষয় মিলিয়ে ফিকির পক্ষ থেকে ৭৬টি প্রস্তাব দেয়া হয়। এর মধ্যে আয়কর বিষযে ১৭টি, ভ্যাট নিয়ে ১৭, শুল্ক বিষয়ে ২৭ ও অন্যান্য বিষয়ে আরো ১৫টি প্রস্তাব দেয়া হয়। 
শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের অগ্রিম ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি : 
আলাদা বাজেট আলোচনায় শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের উপর থেকে বিদ্যমান ২ শতাংশ হারে অগ্রিম ভ্যাট প্রথা বাতিল করার দাবি জানিয়েছে শিপার্স কাউন্সিল অব বাংলাদেশ। এছাড়া রপ্তানি খাতে কন্টেইনার ভাড়া শিপিং এজেন্ট কমিশনসহ চার্জ বা কমিশনের উপর আরোপিত সব ভ্যাট প্রত্যাহার করা, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতা থেকে অব্যাহতি দেয়া, রপ্তানিতে বিদ্যমান উৎসে কর প্রত্যাহার করা, কাঁচাপাটকে কৃষি পণ্য হিসেবে ঘোষণা করা এবং এই খাতকে ১০ শতাংশ হারে বিপণন সহায়তা দেয়া, পাট খাতের উপর থেকে সব ধরণের ভ্যাট ও কর প্রত্যাহার করা, ব্যাক্তির করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো, কর্পোরেট কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়। 
ইলেক্ট্রো সোলার পাওয়ার অ্যাসোসিয়েশন সোলারের কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক কমানো, এ খাতের জন্য নীতিমালা করার প্রস্তাব করে। 
আইসিএমএবি (কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশ) সব ধরণের বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানে সেল্স সফটওয়্যার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, এলাকাভিত্তিক ভিন্ন ভিন্ন করহার না রেখে একই হারে আরোপ করা, বয়স্ক ও মহিলা করদাতাদের আয়করের তথ্য গোপন সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানিতে আসার বাধ্যবাধকতা থেকে রেহাই দেয়ার প্রস্তাব করেন। 
এ সময় ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশন, ইন্ডেন্টিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি ছাড়াও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আব্দুল হক, উপদেষ্টা মঞ্জুর আহমদ, অতিরিক্ত সচিব আব্দুল খালেক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।