ঢাকা দক্ষিণে জয়-পরাজয়ে প্রভাব থাকবে খোকা-সেলিমের!

 
 
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অন্যরকম আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকার সর্বশেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকা এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজি মো. সেলিম। নির্বাচনি লড়াইয়ে মাঠে না থাকলেও এই দুজনের নেপথ্য ভূমিকা এখানে মেয়র পদে জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
 
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের জন্য নয়, নিজ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা কী হয়-সেটাই এখন দেখার বিষয়। কারণ, এই এলাকায় খোকা ও সেলিম দু’জনেরই রাজনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বলয়ও রয়েছে। যার কারণে ঢাকা দক্ষিণে মাঠের খেলার পেছনে অন্য কোনো খেলা হয় কি-না, সেদিকেও চোখ রাখছেন আওয়ামী লীগ-বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকরা।
 
দশম জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের নেতা হাজী সেলিম এবারও ঢাকা দক্ষিণে মেয়র পদে লড়তে চেয়েছিলেন। এজন্য মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেন। তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সায় না পাওয়ায় মনোনয়নপত্র জমা না দিয়ে ‘নিরবে’ সরে যান প্রতিযোগিতা থেকে। আওয়ামী লীগ সমর্থন দেয় সাঈদ খোকনকে।
 
দলীয় সমর্থন পাওয়ার পর এক শুক্রবারে হাজী সেলিমকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় একটি মসজিদে জুমার নামাজ পড়ে একত্রে দুপুরের খাবার খেয়েছেন খোকন। এরপর খোকনের সঙ্গে আর দেখা যায়নি সেলিমকে। মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পেরে তিনি কয়েকদিনের জন্য চলে যান ভারতের আজমীর শরিফে। ফিরে আসার কিছুদিন পর আবার চলে যান বিদেশে ।
 
স্বেচ্ছায় যে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে যাননি, সেটি খোদ জাতীয় সংসদেই জানিয়ে দিয়েছেন হাজী সেলিম।
 
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লালবাগসহ পুরান ঢাকায় হাজী সেলিমের ব্যক্তিগত ভোটব্যাংক রয়েছে। সবসময় এলাকায় থেকে স্থানীয়দের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার কারণে নিজস্ব একটি বলয় তৈরি করেছেন তিনি। এই বলয়ের প্রমাণ মেলে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও। ঢাকা-৭ আসনে (লালবাগ) স্বতন্ত্রভাবে প্রতিযোগিতা করে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীনকে হারিয়ে দেন তিনি। বিএনপিসহ ২০ দলহীন ওই নির্বাচনে হাজি সেলিম পেয়েছিলেন ৪২ হাজার ৭২৮ ভোট, আর মোস্তফা জালাল পান ৩০ হাজার ৭৩৩ ভোট।
অপর দিকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সাদেক হোসেন খোকা নিজে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইচ্ছা প্রকাশ না করলেও তার ‘বিশ্বস্ত অনুসারী’ হিসেবে দলের ভেতর-বাইরে পরিচিত বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম প্রার্থী হয়েছিলেন।
 
 তবে দলের সিদ্ধান্তে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে তাকে সরে যেতে হয়েছে। মাঠ থেকে সরে গেলেও মির্জা আব্বাসের বিষয়ে সালামের অবস্থান নিয়েও কথা আছে দল-জোটের ভেতরে। প্রকাশ্য দূরত্ব দেখা না গেলেও তার নেপথ্য ভূমিকা কী হয়, সেদিকে চোখ রাখছেন আব্বাস অনুসারীরা।
 
খোকার সমর্থকদের অভিযোগ, নগর বিএনপির প্রধান হওয়ার পর থেকে আব্বাস মহানগরে নিজের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে এবার কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে দলীয় সমর্থন পাওয়া ৯৩ জনের মধ্যে খোকার অনুসারী মাত্র ২৮ জন। খোকার অনুসারী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী ইতিমধ্যে সরে দাঁড়িয়েছেন।
 
অবশ্য আব্বাস পত্নী আফরোজা আব্বাস বলেছেন, বিএনপিতে সাদেক হোসেন খোকা-মির্জা আব্বাসের অনুসারী বলে কিছু নেই। সবাই জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অনুসারী। সেখানে কোনো ভেদাভেদ নেই, দল সমর্থিত মেয়র-কাউন্সিলরদের পক্ষে সবাই একাট্টা হয়েই কাজ করছেন।’