রমনায় বোমা হামলা: ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ৪ জন এখনো পলাতক

 
রমনার বটমূলে বোমা হামলা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ৪ আসামি আজও গ্রেফতার হয়নি। গত বছরের ২৩ জুন নিম্ন আদালতে রায়ে ৮ জনকে ফাঁসি ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে বিএনপি নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন আহমেদ, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর, মুফতি শফিকুর রহমান ও মুফতি আবদুল হাই পলাতক।
 
এই ৫ আসামির মধ্যে মওলানা আবু বকরকে র‌্যাব গত ৫ নভেম্বর ঢাকা কেরাণীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে। বাকি ৪ আসামিকে ধরিয়ে দিতে স্বরাষ্ট্র  মন্ত্রণালয় থেকে একটি ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এতে প্রত্যেক আসামিকে ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেয়া হবে।
 
র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ বলেন, আদালতের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ৪ আসামিকে র‌্যাব খুঁজছে। পলাতকদের আত্মীয়-স্বজনদের ওপর মনিটর করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত দেশে তাদের সম্ভাব্য কোনো অবস্থান শনাক্ত হয়নি।
 
র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার একটি সূত্র জানায়, মাওলানা তাজউদ্দিন আহমেদ দক্ষিণ আফ্রিকায় আত্মগোপন করেছেন। হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর দুবাইয়ের আজমানের এমারত গ্যাস ফ্যাক্টরির পাশে একটি ফ্লাটে বসবাস করছেন। মুফতি আব্দুল হাই দেশেই আত্মগোপন করে আছেন। মুফতি শফিকুর রহমান গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সর্বশেষ পাকিস্তানের করাচীতে দেখা গেছে বলে র‌্যাবের গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
 
২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনার দিনই নীলক্ষেত বাবুপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট অমল চন্দ্র বাদী হয়ে রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে দায়েরকৃত আরেকটি মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি’র ইন্সপেক্টর আবু হেনা মো: ইউসুফকে সম্প্রতি ঢাকার সিআইডি থেকে চট্টগ্রাম সিআইডিতে বদলি করা হয়েছে। বিস্ফোরক আইনের এই মামলার অন্যতম সাক্ষী মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা  মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় চার্জশিট দেয়া হয়েছে। এই ১৪ জন বোমা হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী। বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলা সম্পর্কে ঢাকা মহানগর পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) আবু আব্দুল্লাহ ভূইয়া বলেন, ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি বিচারধীন। এ মামলায় ৮৪ জন সাক্ষী রয়েছেন। এদের মধ্যে ৭ জন ইতোমধ্যে সাক্ষী দিয়েছেন। চলতি বছরের শেষের দিকে এ মামলার বিচারিক কার্য শেষ হতে পারে।