বুধবার পর্যন্ত প্রচারণা চালাতে পারবেন না মির্জা আব্বাস

গাড়ি পোড়ানোর দুইটি মামলায় বুধবার পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসকে বাসায় অবস্থান করার সুযোগ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ সময়ের মধ্যে তাকে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

 

এ সংক্রান্ত জামিন আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করে বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেন। বুধবার জামিন আবেদনের ওপর আদেশের জন্য দিন ধার্য করে আদালত।

 

এ পর্যায়ে মির্জা আব্বাসের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত গ্রেফতার বা হয়রানি না করার বিষয়ে আদালতের কাছে আদেশ প্রার্থনা করেন। এর বিরোধিতা করে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, এ ধরনের নির্দেশনা দেয়া ঠিক হবে না।

 

আদালত বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে তো আমরা গ্রেফতার না করার জন্য আদেশ দিয়ে থাকি। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আদালত গ্রেফতার না করার বিষয়ে নির্দেশনা দিলে আবেদনকারী নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন।

 

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, আবেদনের ওপর আদেশ না দেয়া পর্যন্ত মির্জা আব্বাস কোন ধরনের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ এবং গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে পারবেন না। তিনি বাসায় যেতে পারবেন এবং বাসা থেকে আদেশের দিন আদালতে আসবেন।

 
আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, আদালত দুইটি মামলায় বুধবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন। এ সময়ের মধ্যে পুলিশ মির্জা আব্বাসকে গ্রেফতার করবে না। 
 
গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে গত ২৯ ডিসেম্বর পল্টন থানায় এবং ৫ জানুয়ারি মতিঝিল থানায় দুইটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। এছাড়া প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এই তিনটি মামলায় গতকাল হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান মির্জা আব্বাস। তার পক্ষে শুনানিতে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, মির্জা আব্বাস ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী। নির্বাচনে ভোট চাইতে তাকে সশরীরে ভোটারদের কাছে যেতে হবে। এজন্য দুই সপ্তাহের জামিন প্রয়োজন। আদালত শর্তাসাপেক্ষে জামিন দিতে পারে। প্রয়োজনে আবেদনকারী তার পাসপোর্ট আদালতের কাছে জমা রাখতে রাজি আছেন। তিনি বলেন, গাড়ি পোড়ানোর দুইটি মামলায় মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ নেই।
 
জামিনের বিরোধিতা করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, নির্বাচনে অংশ নেয়াটা মৌলিক অধিকার নয়।
 

দুদকের মামলায় মির্জা আব্বাসের জামিন আবেদনের ওপর খন্দকার মাহবুব শুনানি করতে চাইলে হাইকোর্ট বলে, এ ধরনের মামলার শুনানি গ্রহণ করি না। কারণ এ ধরনের মামলার শুনানির জন্য আলাদা বেঞ্চ রয়েছে। আপনারা সেখানে যান। এরপর পুনরায় শুনানির জন্য আবেদন জানালে আদালত বলেন, আমরা এটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেব।