ডিসিসির বেশিরভাগ প্রার্থী ব্যবসায়ী :সুজন

আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা-কারী মেয়র এবং কাউন্সিল পদপ্রার্থীদের বেশির ভাগই ব্যবসায়ী। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ী ৬৭ দশমিক ২০ শতাংশ আর ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে এই সংখ্যা ৭১ দশমিক ২৮ শতাংশ। ঢাকা উত্তরে প্রায় ৪৮ শতাংশ প্রার্থী এবং দক্ষিণে প্রায় ৫৩ শতাংশ প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিকের নিচে। ঢাকা উত্তরে প্রায় ২০ শতাংশ ও দক্ষিণে প্রায় ২১ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা আছে। এর মধ্যে উভয় সিটিতে হত্যা মামলা আছে যথাক্রমে ৩ দশমিক ৪৯ ও ৪ দশমিক ৩৩ শতাংশের বিরুদ্ধে। মনোনয়ন বৈধ হওয়া প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
 
গতকাল সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের আয়, সম্পদ, ঋণ ও কর প্রদানের বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ করে সংগঠনটি। এসময়ে উপস্থিত ছিলেন সুজনের সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, নির্বাহী সদস্য ড. হামিদা হোসেন ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।
 
তথ্য বিশ্লেষণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, প্রার্থীদের জেনে শুনে ও বাজিয়ে ভোটাররা যাতে ভোট দিতে পারেন, এ জন্যই এটা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন তার অবাধ ক্ষমতা প্রয়োগ করছে না। নির্বাচনের আগে সেনা মোতায়েন করার পক্ষে মতপ্রকাশ করেন তিনি।
 
প্রার্থীদের সম্পদ সম্পর্কে সুজন জানায়, ঢাকা উত্তরের ১৬ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ৮ জনের সম্পদ ২৫ লক্ষ টাকার নিচে। মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে আনিসুল হকের সম্পদ প্রায় ৩৫ কোটি ১৯ লাখ টাকার ও তাবিথ আওয়ালের সম্পদ প্রায় ৩৪ কোটি টাকার। ২৭৫ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ২১০ জনের সম্পদ ২৫ লক্ষ টাকার কম। কোটিপতি ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর সংখ্যা ১৮ জন। ৮১ জন সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ৬৭ জনের আয় বছরে ২৫ লক্ষ টাকার কম। ঢাকা দক্ষিণের ২০ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ১৩ জনের সম্পদ ২৫ লক্ষ টাকার নিচে। মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতি আছেন ৬ জন। মীর্জা আব্বাস হোসেনের সম্পদ প্রায় ১১৪ কোটি টাকার। সাইদ খোকনের সম্পদ প্রায় ৫১ কোটি টাকার এবং সাইফুদ্দিন আহমেদের সম্পদ প্রায় ১২ কোটি ২২ লাখ টাকার। ৩৭৩ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ২৭৮ জনের সম্পদ ২৫ লক্ষ টাকার কম। কোটিপতি কাউন্সিলর প্রার্থীর সংখ্যা মোট ১৮ জন।
 
এ প্রসঙ্গে বদিউল আলম বলেন, প্রার্থী কর্তৃক দাখিলকৃত হলফনামায় সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য লেখা থাকায় তাদের প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা করা যায় না। প্রার্থীদের অনেকেই আয়কর বিবরণী জমা দেননি, যা অসম্পূর্ণ হলফনামা। এ ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তাগণ কেন ব্যবস্থা নেননি তা নিয়ে আমাদের প্রশ্ন রয়েছে।
 

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, একাধিক মেয়রপ্রার্থীর আয় ও সম্পদের চেয়ে ঋণ অনেক বেশি। তাহলে তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের মতো এত বিশাল ব্যয়ের টাকা কোথায় থেকে আসবে। এটা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব প্রার্থীর মনসতাত্ত্বিক সততার অভাব রয়েছে।