প্রতিবছরই আমাদের এই জাতীয় অনুষ্ঠান বর্ষবরণ শুরু হওয়ার পূর্বেই এই মুখোশ তৈরির ধুম লেগে যায়। একসময় এই ক্ষেত্রটা খানিকটা সীমাবদ্ধ ছিল কিন্তু এখন অনেককেই এই আয়োজনে সম্পৃক্ত হতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরাই এই আয়োজনে নিজেদের সম্পৃক্ত করছে বিশেষ করে। প্রতিবারের মতো এবারও পঁয়ত্রিশ জনকে নিয়ে ঢাকার লালমাটিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের মাঠে মুখোশ তৈরির এক কর্মশালার আয়োজন করেছেন শিল্পী তরুণ ঘোষ। আসছে বৈশাখকে উপলক্ষ করে এখানে বর্তমান সময়ে বাহারি ডিজাইন ও রঙের মুখোশ বানানোর ধুম পড়েছে। আর এই আয়োজনে যোগ দিয়েছেন স্কুলপড়ুয়াসহ আরও অনেক পেশাজীবী মানুষ। যাদের মধ্যে কেউ কেউ মুখোশে রং করছেন, কেউ মুখোশের কোথায় কোনো সমস্যা হলো নাকি এসব দেখছেন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে, কেউ রঙের মিশ্রণ করছেন আবার অনেককেই দেখা যাচ্ছে মুখোশের আস্তরণটি ঘষে নিতে, এদের মধ্যে কেউবা আবার শেষবারের মতো দেখে নিচ্ছেন কাজটি ভালোভাবে শেষ হয়েছে কি না। তবে সবকিছুর পরও যখন এদের কেউ কোনো সমস্যা দেখতে পান, তখন নিজেরা এর সমাধান না দিতে পারলে ছুটে যান তরুণ ঘোষের কাছে। যার সমাধান তিনি দিয়ে থাকেন। শুরুর দিকের কথা বলতে গিয়ে তার কথার সাথে আরও যোগ করেন, ‘আমাদের শুরুর সময়ে আমরা কোনো গাইডার এমনভাবে পাইনি এখনকার ছেলেমেয়েরা যেমন পাচ্ছে।’ নিজের আগ্রহের মধ্যেও নানা পরিবর্তন এসেছে বলেও জানান তিনি। প্রথমদিকে মুখোশ বানানোর মাঝে খুব আগ্রহ পাওয়া যেত, এখন আর নিজে নয়, নতুনদেরকে বানানোর কাজে সহযোগিতা করতে বেশি আগ্রহ পান এই শিল্পী। কীভাবে মুখোশ বানানো হয়—এ সম্পর্কে অনেকেরই আগ্রহের কমতি নেই। তিনি বললেন, ‘মুখোশ তৈরি করার প্রধান উপাদান হলো মাটি। প্রথমেই মাটি দিয়ে মুখোশের আবরণটি তৈরি করে নিতে হবে। তারপর তা হালকা রোদে শুকাতে হবে। অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে রোদটা যেন বেশি না হয়। তাহলে মাটির অবয়বটি ফেটে যেতে পারে। তারপর শুকানো মাটির অবয়বটির উপর গ্রিজ লাগিয়ে পিচ্ছিল করতে হবে। একটু বেশি করে গ্রিজ লাগাতে হবে। যাতে মাটির কোনো উঁচু-নিচু ভাব না থাকে। তারপর হালকা একটা পলিথিন লাগিয়ে দিতে হবে মুখোশের উপর। এরপর ময়দা নিয়ে তাকে আঁঠালো করে এর মধ্যে তুঁত ব্যবহার করতে হবে। এবার খবরের কাগজ ছোট ছোট করে একদিকে থেকে মুখোশটির উপর লাগতে হবে। এভাবে সম্পূর্ণ লাগানো হলে আবার আঁঠার প্রলেপ দিয়ে কাগজ লাগাতে হবে। এভাবে পাঁচ-ছয়বার লাগালেই হবে। এরপর তা তপ্ত রোদে শুকাতে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে শুকাতে দেওয়ার কিছুক্ষণ পর কাগজের মুখোশটিকে মাটির থেকে হালকা আলাদা করে দিতে হবে। এরপর যখন খুব শক্ত হয়ে যাবে, তখন মাটির মুখোশ থেকে আলাদা করে ফেলতে হবে আসল মুখোশটিকে। রং করার ক্ষেত্রে একটু চিন্তা ভাবনার পরিপক্বতা ঘটাতে হবে মুখোশের ক্ষেত্রে। প্রথমদিকে সাদা রং দিয়ে পুরো মুখোশটিকে সাদা করে ফেলতে হবে। তারপর নিজের ইচ্ছামতো রং করলেই এবং তা রোদে শুকানোর পরই পেয়ে যাবেন আপনার প্রিয় মুখোশ।’