রাবি উপাচার্যকে সংসদ সদস্য ফারুকের হুমকি!

 
 
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিনকে ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি উপাচার্যের দফতরে এসে টেবিল চাপড়ে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে ওমর ফারুক চৌধুরী উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনে উপাচার্য দফতরে যান। অভিযোগ উঠেছে এসময় ওমর ফারুক চৌধুরী টেবিল চাপড়ে উপাচার্যকে দেখে নিতে চেয়েছেন।
 
এ ব্যাপারে উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাংসদের (ওমর ফারুক) পরিচালিত রাজশাহীর শাহ্ মখদুম মেডিকেল কলেজে একাডেমিক অনুমোদন ছাড়াই ছাত্র ভর্তিসহ নানা অসংগতির কারণে কলেজ পরিদর্শক দল জরিমানা করে। সেটা নিয়ে কথা বলতে তিনি বুধবার দুপুরে অফিসে এসে আমাকে অপমান ও সরিয়ে দেয়ার হুমকি দেন। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে উপাচার্যের দফতরে ঢুকে তিনি খুবই খারাপ ভাষায় কথা বলেছেন। এতে উপাচার্য হিসেবে আমি অপমানিত বোধ করছি। আমি সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করবো।’
 
এদিকে যোগাযোগ করা হলে সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী হুমকি ও শাসানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তেমন কোনো কারণ ছাড়াই শাহ্ মখদুম মেডিকেল কলেজকে ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। এ নিয়ে কথা বলতে বুধবার দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে মোবাইলে সাক্ষাত করতে চালে দেখা করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এসময় আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি কি না, প্রশ্ন তুলে অপমান সূচক কথাবার্তা বলেন। এসময় আমি উপাচার্যের দর্শনার্থী কক্ষে গিয়ে উপাচার্যের অনুমতি নিয়ে সাক্ষাত করি। সেখানে আমি সৌজন্য বজায় রেখেই তার সাথে কথা বলেছি।'
 
এসময় সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, 'আমি কেন উপাচার্যকে হুমকি দিতে যাব? যা বলার যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বলবো। কিন্তু উপাচার্য কেন আমার বিরুদ্ধে মিডিয়ায় উল্টো অপমানের মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন তা বোধগম্য নয়। উপাচার্য হিসেবে তিনি যদি মনে করেন আমি খারাপ আচরণ করেছি, তবে দুঃখ প্রকাশ ছাড়া আমার কিছু করার নেই।'
 
এসময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ তুলেন। ঘুষ না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জরিমানা করেছে বলে দাবি করেন সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী।
 
উপাচার্যের দপ্তর থেকে অভিযোগ করা হয়, ‘বুধবার উপাচার্য নিজ দফতরে সকাল থেকেই মেডিকেল অফিসার নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ডে ছিলেন। বেলা ১টার দিকে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী। কিন্তু উপাচার্য নিয়োগ বোর্ডে থাকায় তার সঙ্গে পরে দেখা করতে চান। এর ১০ মিনিট পরেই সাংসদ ওমর ফারুক, তার ব্যক্তিগত সহকারী  দ্বীপায়ন সরকারসহ চার-পাঁচজন উপাচার্যের দফতরের দর্শনার্থী কক্ষে প্রবেশ করেন। অফিসের কর্মচারীরা সংসদ সদস্য আসার খরব দিলে উপাচার্য নিয়োগ বোর্ড সংক্ষিপ্ত করেন। এরপর সাংসদ উপাচার্যের কক্ষে প্রবেশ করেন। কক্ষে প্রবেশ করে তিনি উপাচার্যের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করেন এবং টেবিল চাপড়ে উপাচার্যকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। প্রায় পাঁচ মিনিটের মতো তিনি দপ্তরে থেকে বিভিন্নভাবে উপাচার্যকে শাসিয়ে বের হয়ে যান।