অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হয়েছে। নববর্ষে সুন্দর ও সমৃদ্ধ স্বদেশ গঠনে জাতি, ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন নগরবাসী। বর্ষবরণ উপলক্ষে চট্টগ্রাম উত্সবের নগরীতে পরিণত হয়। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই দিকে দিকে বেজে ওঠে উত্সবের সুর। বেলা বাড়ার সাথে সাথে রাজপথে মানুষের ঢল। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ছিল পুলিশ মোতায়েন।
বরাবরের মতো এবারও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মূল আকর্ষণ ছিল নগরীর ডিসিহিল খ্যাত নজরুল স্কয়ার। ডিসি হিলে বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল চিরায়ত বাংলা গান, নাচ, আবৃতি ও কবিগান। এছাড়া সিআরবি শিরীষ তলায় দিনভর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলার আয়োজনে জড়ো হয় হাজারো মানুষ।
নববর্ষ উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা আয়োজন করে। সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বের হওয়া বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। এরপর সেখানে পান্তা ইলিশ দিয়ে সবাইকে আপ্যায়িত করা হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে নগরীতে বের হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। বর্ণাঢ্য এই শোভাযাত্রায় চারুকলার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ছাড়াও বিপুল সংখ্যক উত্সাহী তরুণ-তরুণী অংশ নেন। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব আঙ্গিনার ভেতরে বৈশাখী মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এছাড়া বিভিন্ন পাড়া, মহল্লাতেও বৈশাখী উত্সব আয়োজন করা হয়।