প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে চায় বিধবাপল্লী

চুয়াল্লিশ বছর পর সোহাগপুরের কপালপোড়া বিধবাদের চোখে-মুখে খুশির ঝিলিক দেখা গেলো মঙ্গলবার নববর্ষের প্রথম দিন। জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধে স্বামীহারা এই বিধবাদের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। নববর্ষের প্রথম দিন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ড. ইমরান এইচ সরকারকে কাছে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত এই নারীরা। তাদের এখন একটাই আকাঙ্ক্ষা, জীবদ্দশায় ‘শেখের বেটি’ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাদের মাঝে পেতে চান। এ প্রসঙ্গে স্বামীহারা হাফিজা বেওয়া ও করবুলি বেওয়া ইত্তেফাককে জানান, তারা বেঁচে থাকতে যেন শেখ হাসিনাকে দেখে যেতে পারেন, সেই আশাই করছেন।

 
কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার দিনই ড. ইমরান এইচ সরকার ঘোষণা দিয়েছিলেন, শেরপুরের নালিতাবাড়ির এই সোহাগপুর বিধবাপল্লীতে স্বামীহারা-স্বজনহারাদের সঙ্গে নববর্ষের প্রথম দিন উদযাপন করবেন। ঘোষণা অনুযায়ী ১লা বৈশাখ দুপুরে মঞ্চের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীকে নিয়ে তিনি বিধবাপল্লীতে পৌঁছে ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই নিহত শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এসময় শেরপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি, উপজেলা আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় শহীদ পরিবার কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে বিধবাদের সাথে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মঞ্চের মুখপাত্র। এসময় তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিধবারা। তাদের কান্নায় অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
 
গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে ইমরান এইচ সরকার, জীবনানন্দ জয়ন্ত, সবাক পাখি, শেখ রুদ্র শাম্মি হক ও শিবলী হাসান বিধবাদের ফুল ও উপহার সামগ্রী দিয়ে সম্মানিত করেন। এসময় জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম সম্পাদক দুলাল মিয়া ৩২ বিধবার হাতে নববর্ষের বস্ত্র কেনার জন্য ১ হাজার করে টাকা তুলে দেন। দুপুরে মঞ্চের নেতৃবৃন্দ বিধবাদের নিয়ে সোহাগপুর স্মৃতিসৌধ এলাকায় পান্তাভাত খান। এসময় বিধবারা ইমরান এইচ সরকারের কাছেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাদের মাঝে পাওয়ার প্রত্যাশার কথা জানান।
 
বিকালে কাঁকরকান্দি মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চে স্থানীয় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে গণজাগরণ মঞ্চের নেতৃবৃন্দকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। এ সময় মঞ্চের মুখপাত্র ড. ইমরান এইচ সরকার স্বজনহারা ও সম্ভ্রমহারা সকল নারীকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়ে রাষ্ট্রকে তাদের দায়িত্ব নেয়ার আহ্বান জানান।
 

একাত্তরের ২৫ জুলাই তত্কালীন আল বদর নেতা কামারুজ্জামানের সহায়তায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী শেরপুরের এই সোহাগপুর গ্রামে হামলা চালিয়ে ১৪৪ জন পুরুষকে হত্যা করে। এ সময় ধর্ষণের শিকার হন গ্রামটির অসংখ্য নারী। ওই ঘটনার পর থেকে গ্রামটি ‘বিধবাপল্লী’ নামে পরিচিতি পায়।