মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে রাষ্ট্রায়ত্ব পাঁচ ব্যাংকের কোন অগ্রগতি নেই। সম্প্রতি এ খাতের ব্যাংকগুলোতে তদন্ত করে এমন তথ্য পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। তাই ওই পাঁচ ব্যাংককে সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে। আর তাদের কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ জানিয়ে দ্রুত উন্নতির নির্দেশনাও দিয়েছে বিএফআইইউ। একইসঙ্গে ২০১৫ সালের জন্য প্রতিটি ব্যাংককের কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে জমা দিতে বলা হয়েছে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের।
জানা গেছে, সম্প্রতি সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও বিভিন্ন শাখায় মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনার তদন্ত করে ব্যাংকগুলোর রেটিং তৈরি করেছে বিএফআইইউ। তদন্তে ‘এএমএল’ নামের রেটিংয়ে প্রতিটি ব্যাংকের অবস্থা ‘অসন্তোষজনক’ (আনস্যাটিসফ্যাক্টরি) পেয়েছে বিএফআইইউ।
এ বিষয়ে বিএফআইইউ উপ-প্রধান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংকগুলোকে সফটওয়্যারজনিত কারনে গো এএমএল বাস্তবায়নে কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে সেসব সমস্যা সমাধান করে এএমএল রেটিং মান উন্নয়নের জন্য কিছু পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সে অনুযায়ী তারা কাজ শুরু করেছে। আশা করা হচ্ছে ব্যাংকগুলোর দ্রুত উন্নতি হবে।
এদিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংকগুলোর সংশিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিভাগ থাকলেও পর্যাপ্ত জনবল নেই। ব্যাংকগুলোর অধিকাংশ শাখা এখনও অনলাইনে আসেনি। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক গো এএমএল সফটওয়্যার চালু করলেও তাদের রিপোর্টিং হচ্ছে সনাতন পদ্ধতিতে। আবার অনেক শাখায় প্রতিবেদনযোগ্য নগদ লেনদেন (সিটিআর) ও সন্দেহজনক লেনদেন (এসটিআর) হলেও তার বিএফআইইউতে জানানো হচ্ছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ডিসেম্বর শেষে এ পাঁচ ব্যাংকের শাখা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৬৩০টি। দেশের ব্যাংকিং খাতের মোট শাখার প্রায় অর্ধেক এসব ব্যাংকের নেটওয়ার্কভুক্ত। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ মানদণ্ডে গ্রে থেকে গ্রিন স্তরে উন্নীত হয়েছে।