নতুন মিশন নিয়ে

 
শাইলিন উডলি, বর্তমান প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় এক নাম। গত বছর একই সাথে ‘ডাইভারজেন্ট’ ও ‘ফল্ট ইন আওয়ার স্টারস’ সিনেমাদুটি নিয়ে হলিউডে প্রবেশ ঘটে তার। একই সাথে দুটি সিনেমাই হিট হয় এবং সেই সাথে তিনি উঠে আসেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে। জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সম্প্রতি মুক্তি পায় ‘ডাইভারজেন্ট’ সিনেমার সিক্যুয়েল ‘ইনসারজেন্ট’। জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম
 
ভেরোনিকা রুথের বেস্টসেলিং উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘ইনসারজেন্ট’ সিনেমাটিতে ভবিষ্যত্ পৃথিবীর গল্প বলা হয়েছে। যেখানে মানুষ অনেক অস্থিরতার মধ্যে জীবন পার করে। তারা একটুখানি শান্তির আশায় যেকোনো ধরনের কাজ করতে প্রস্তুত। এমন একটি পৃথিবীতে শাসক হিসেবে একটি গোষ্ঠী আধিপত্য বিস্তার করতে থাকে। কিন্তু প্রতিনিয়ত দাপট বাড়তে থাকে। একসময় প্রয়োজন পড়ে রুখে দাঁড়ানোর। আর এমন মুহূর্তে সামনে এগিয়ে আসে প্রধান দুই চরিত্র। তারা দুজন মিলে আবারও পৃথিবী বাঁচানোর মিশনে নামে। এভাবেই এগিয়ে চলে সিনেমার গল্প। এর ভেতর যোগ করা হয়েছে নতুন কিছু স্পেশাল ইফেক্ট। সেই সাথে রয়েছে অসাধারণ সাউন্ড ইফেক্ট।
 
মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রে ৫.৪ কোটি ডলার আয় করেছে ‘ইনসারজেন্ট’। বিশ্বব্যাপী আয় করেছে ১০ কোটি ডলারেরও বেশি। সব মিলিয়ে বছরের প্রথম চলচ্চিত্রে বড় হিট পেলেন ‘দ্য ফল্ট ইন আওয়ার স্টারস’ অভিনেত্রী শাইলিন উডলি। তবে ‘ডাইভারজেন্ট’ সিরিজের দ্বিতীয় পর্বটি ছাড়িয়ে যেতে পারেনি প্রথম পর্বকে। বক্স অফিসে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে লিলি জেমস অভিনীত ‘সিন্ডারেলা’। অর্থাত্ বক্স অফিস নেতৃত্ব দিচ্ছে নারীপ্রধান দুই চলচ্চিত্র। জানা যায়, প্রত্যাশার চেয়ে কম আয় করায় খানিকটা অস্বস্তিতে রয়েছে ‘ইনসারজেন্ট’-এর প্রযোজনা সংস্থা লায়নসগেট। আশা করা হয়েছিল শাইলিন উডলি অভিনীত ‘ইনসারজেন্ট’ ৫.৭-৬ কোটি ডলারের মতো আয় করবে প্রথম তিন দিনে। সেখানে আয় করেছে ৫.৪ কোটি ডলার। চলচ্চিত্রটির ৬০ ভাগ দর্শকই নারী। বোঝা যাচ্ছে নারীদের মধ্যে শাইলিনের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। লায়নসগেট ডিস্ট্রিবিউশনের প্রধান আশা করছেন, অচিরেই পুরুষ দর্শকের সংখ্যা বাড়বে। ‘ইনসারজেন্ট’-এর নির্মাণ ব্যয় ১১ কোটি ডলার। যা ‘ডাইভারজেন্ট’-এর চেয়ে ২ কোটি ডলার বেশি। প্রথম তিনদিনে ‘ডাইভারজেন্ট’ আয় করে ৫.৫ কোটি ডলার, যা পরে ২৯ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। এ দিকে আন্তর্জাতিক ৭৬টি বাজারে ‘ইনসারজেন্ট’ আয় করেছে ৪.৭ কোটি ডলার। বোঝা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সিরিজটির জনপ্রিয়তা বেড়েছে। সব মিলিয়ে প্রথম তিন দিন চলচ্চিত্রটি ১০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছে। যা শাইলিনের বক্স অফিস চাহিদাকে চাঙা করেছে। তার হাতে আছে আরও অনেক অনেক ছবি।
 
অভিনয় পেশার বাইরে গিয়ে তার একটি অদ্ভুত অভ্যাসের কথা জানা যায়, তার প্রিয় খাবার পোকামাকড়। তিনি বলেন, ‘জীবনে প্রচুর পিঁপড়া খেয়েছি। স্বাদটা দারুণ! জুন বাগ (এক ধরনের গুবরে পোকা) তো অসাধারণ! আমি মনে করি খাবারের ভবিষ্যত্ লুকিয়ে আছে এসব পোকামাকড়ের মধ্যে।’ সম্প্রতি নাইলন ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে ২৩ বছর বয়সী শাইলিন আরও জানান, তার পছন্দের রং হলো কালো। সারাক্ষণ কালো জামা পরে থাকতেই ভালো লাগে তার।
 
হলিউড তারকাদের বিলাসবহুল জীবনের গল্প কে না জানে। দুই হাতে তারা যেমন আয় করেন, তেমন খরচও করতে জানেন। তবে শাইলিন উডলি নিজেকে ‘গৃহহীন’ দাবি করছেন। উডলির আসলেই কোনো বাড়ি নেই। তবে এমন নয় তিনি অভাবে পড়ে গৃহহীন। আসলে উডলি নিজের বাড়িতে একাকী থাকার চেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসেন। তাই গত বছর নিজের বাড়ি বেচে দিয়েছেন। এখন সংসার বলতে তার একটা স্যুটকেস আছে। যেটাতে থাকে প্রয়োজনীয় সবকিছু। কাজের সময় তো হোটেলেই থাকতে হয়, কাজ না থাকলে সেই সময়টায় স্যুটকেস হাতে নিয়ে উডলি বেরিয়ে পড়েন কোনো বন্ধুর ঠিকানায়।