আবার নতুন করে শুরু

 
আমায়রা দাস্তর বলিউডে পা রেখেছেন আরও দু’বছর আগে। প্রথম অভিনীত ছবিটি সাফল্য না পাওয়ায় বেশির ভাগ দর্শকের কাছে অচেনাই রয়ে গেছেন। হালে তাকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। অনেকেই তার ব্যাপারে কৌতূহলী হয়েছেন। কয়েকবছর বিরতির পর আমায়রা দ্বিতীয় বলিউডি সিনেমা নিয়ে উপস্থিত হচ্ছেন দর্শকদের সামনে। এই তন্বী অভিনেত্রী এবার সাফল্যের চমক দেখাবেন তেমন কথা বলাবলি হচ্ছে। নতুন প্রজন্মের সম্ভাবনাময় নায়িকা আমায়রা দাস্তরকে নিয়ে লিখেছেন রেজাউল করিম খোকন
 
বলা যায়, আবার নতুন করে পথচলা শুরু হয়েছে তার। অনেকের বেলায় তেমন হয় ১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ইশাক’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয়েছিল আমায়রা দাস্তরের। মডেলিং থেকে আসা আমায়রা অভিনয় জীবনের শুরুতেই নায়ক হিসেবে পেয়েছিলেন প্রতীক বাব্বরকে। রোমান্টিক ধাঁচের ছবিটি কোনোভাবেই সাড়া জাগাতে পারেনি। ফলে নতুন নায়িকা আমায়রা বেশির ভাগ দর্শকের চোখের আড়ালে রয়ে যান। এরপর দু’বছর সময় পেরিয়ে গেছে। এরমধ্যে তাকে নতুন কোনো হিন্দি সিনেমায় দেখা যায়নি। এ বছর ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পেয়েছে আমায়রা অভিনীত তামিল রোমান্টিক থ্রিলার ছবি ‘আনেগন’। এ ছবিতে দক্ষিণী জনপ্রিয় তারকা ধানুশের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তিনি। এখানে একসঙ্গে চারটি পৃথক চরিত্রে দেখা গেছে আমায়রাকে।  ভারতীয় পার্সি পরিবারের মেয়ে হলেও গ্ল্যামার জগতে তার বিচরণ ১৬ বছর বয়স থেকেই। রক্ষণশীল পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে উঠলেও মাধ্যমিক শ্রেণিতে থাকাকালীন অভিনয়ের জন্য মাঝপথে পড়াশোনা বাদ দেন আমায়রা। প্রথমে শুরু করেছিলেন মডেলিং। বেশ কিছু বিখ্যাত পণ্যের অ্যাডে মডেল হয়ে তখনই নজর কেড়েছিলেন অনেকের। সেই সুবাদে ‘ইশাক’ ছবিতে নায়িকা হিসেবে ব্রেক মিলেছিল। অন্য অনেক নবাগতার মতো প্রথমেই কপাল খুলেনি আমায়রার। এ সপ্তাহে মুক্তি পাচ্ছে তার অভিনীত ‘মিস্টার এক্স’ ছবিটি। অবিশ্বাস্য কিছু ঘটনা নিয়ে নির্মিত এ ছবিতে আমায়রা নায়িকা হয়েছেন বলিউডের তারকা অভিনেতা ইমরান হাশমির বিপরীতে।
 
‘মিস্টার এক্স’ ছবিটি নির্মিত হয়েছে বলিউডের প্রতিষ্ঠিত ব্যানার বিশেষ ফিল্মসের প্রযোজনায়। যার পেছনে রয়েছে বিখ্যাত ভাট পরিবার। তাদের কোনো সিনেমায় নায়িকা হতে পারাটা নিঃসন্দেহে সৌভাগ্যের ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে আমায়রা নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। ‘আমার মাত্র ২১ বছর বয়স, সবেমাত্র বলিউডে পা রেখেছি। এত তাড়াতাড়ি তেমন একটি নামীদামি ব্যানারের ছবিতে নায়িকা হওয়ার সুযোগ পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমি যখন ‘মিস্টার এক্স’ ছবির শুটিং করি, তখন পুরো ভাট পরিবার সেখানে থাকত, তাদের তত্ত্বাবধানে আমি কাজ করেছি তারা নানাভাবে আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন যা আমার আত্মবিশ্বাসকে মজবুত করেছে, ফলে সহজ সাবলীলভাবে আমি কাজ করতে পেরেছি,’ আমায়রা বলেন। হলিউডের সাড়া জাগানো ছবি ‘হলো ম্যান’-এর অনুপ্রেরণায় ‘মিস্টার এক্স’ ছবিটি নির্মিত হয়েছে। এ ছবিতে নায়ক ইমরান হাশমি প্রথমবারের মতো একটি ভিন্ন ধরনের চরিত্রে রূপদান করেছেন। তার প্রেমিকা চরিত্রে অভিনয় করেছেন আমায়রা দাস্তর। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যখন আমাকে ইমরান হাশমির বিপরীতে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ করা হয়, সত্য বলতে কি আমি কিছুটা দ্বিধায় ছিলাম, ভেতরে ভেতরে দারুণ নার্ভাস ছিলাম, খুব টেনশন হচ্ছিল। পরিচালক বিক্রম ভাট আমার মনের অবস্থা বুঝতে পেরে নানাভাবে সাহস দেন। ইমরান হাশমির সঙ্গে শুটিং করতে গিয়ে সব ভয় দূর হয়ে যায়। এর আগে প্রচুর নতুন নায়িকার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তার। খুব কম সময়ের মধ্যে আমাকে সহজ করে তুলেছিলেন চমত্কার ব্যবহারের মাধ্যমে।’ ‘মিস্টার এক্স’ ছবিটিকে পারিবারিক সিনেমা হিসেবে অভিহিত করা হলেও নায়ক ইমরান হাশমির সঙ্গে আমায়রার বেশ কয়েকটি চুম্বন দৃশ্য রয়েছে। লাজুক টাইপের মেয়ে হিসেবে আমায়রার পরিচিতি থাকলেও ইমরান হাশমির সঙ্গে চুমুর দৃশ্যে ঠিকই অভিনয় করেছেন। এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইমরান হাশমির সহযোগিতা ছাড়া কিছুই সম্ভব হতো না। তিনি আমাকে সহজ করে তুলেছেন, যার ফলে চুম্বন দৃশ্যগুলো করতে তেমন সমস্যা হয়নি।’ বলিউডে নতুন পা রাখা তন্বী নায়িকাদের দলে নিজের অবস্থান নিয়ে ততটা চিন্তিত নন আমায়রা। আমি সবেমাত্র পা রেখেছি, এখন আমি শিখছি, আরও অনেক কিছু শেখার বাকি আছে আমার। এ পর্যন্ত যে ছবিগুলোতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি তাতে আমি সন্তুষ্ট। যেখানে নিজেকে ঠিকভাবে তুলে ধারা সুযোগ আছে, নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারব বলে মনে করছি আমি। এখন তেমন ছবিতেই অভিনয় করছি,’ বলেন আমায়রা। ‘মিস্টার এক্স’ ছবিটির ব্যবসায়িক ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন এই নবাগতা। কারণ এ ছবির সাফল্য-ব্যর্থতা বলিউডে তার ভবিষ্যত্ অনেকটাই নির্ধারণ করে দেবে।