বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল তাদের ইতিহাসের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিলো পাকিস্তানের বিপক্ষে; সেই ১৯৮৬ সালে। সেই থেকে বাংলাদেশ কখনোই এই দলটির বিপক্ষে ‘ফেবারিট’ তকমা গায়ে জড়িয়ে মাঠে নামেনি। ১৯৯৯ সালের একটা ম্যাচ বাদ দিলে জয়ও পায়নি কখনো।
কিন্তু এবার পরিস্থিতিটা একেবারেই ভিন্ন।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ বেলা আড়াইটা থেকে শুরু হতে যাওয়া তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে পাকিস্তানের চেয়ে খানিকটা এগিয়ে থাকছে বাংলাদেশ। দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, অভিজ্ঞতা আর কন্ডিশন বিবেচনা করলে ধরে নিতে হবে এমনটাই।
গতকাল বাংলাদেশের আজকের ম্যাচের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান তো নিজেদের ফেবারিট বললেনই; পাকিস্তানের কোচ ওয়াকার ইউনুসও বললেন– বাংলাদেশ ফেবারিট।
তবে কাগজে কলমের এই হিসাবে কিংবা অতীত পরিসংখ্যান কিছুই আজ মাঠে কাজ করবে না বলে সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজার বদলে এই ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিতে যাওয়া সাকিব আল হাসান। এশিয়ান ক্রিকেটের এই পরাশক্তিদের হারাতে বাংলাদেশকে নিজেদের সেরা খেলাটাই খেলতে হবে জানিয়েছেন তিনি। ওয়ানডে অভিষেকের পর আরো ৩১ ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়ে একবার মাত্র তাদের হারাতে পেরেছে বাংলাদেশ। তিন ফরম্যাট মিলে এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে জয় কেবল ওই একটিই। নর্থহ্যাম্পটনে ১৯৯৯ বিশ্বকাপে সেই জয়ের পরও কেটে গেছে ১৬ বছর। তবে তারপরও নিজেদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সই আশা যোগাচ্ছে সাকিবদের।
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ আটে খেলা দলটি গত দেড় বছরের মধ্যে এই মুহূর্তে নিজেদের সেরা ফর্মে রয়েছে। বিশ্বকাপের সেই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা এই সিরিজেও টেনে আনার সুযোগ দেখছেন সাকিব। নিজেদের ফর্ম, ঘরের মাটিতে খেলার সুবিধার পাশাপাশি সাকিব এখানে বিবেচনায় আনছেন প্রতিপক্ষের অভিজ্ঞতার ঘাটটিও।
ওয়ানডে দলের নিয়মিত সহ অধিনায়ক তাই নিজেদের ফেবারিট ঘোষণা করতে দ্বিধা করলেন না, ‘আমার কাছে মনে হয় আমাদের অ্যাপ্রোচটা (দৃষ্টিভঙ্গি) ঠিক আছে। আমরা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে এসেছি এবং ওটাই আমাদের লক্ষ্য। আমি জানি না অন্যরা কি চিন্তা করছে কিংবা আপনাদের কি ধারণা। আমরা যদি আগেই চিন্তা করি আমরা কখনোই জিতি নাই তাহলে জিতবো না। এমন চিন্তা করলে আমার মনে হয় না, কারো পক্ষে জেতা সম্ভব। আমাদেরতো এটা পরিবর্তন করতে হবে। ১৬ বছর হয়নি বলে কখনই হবে না। তাহলেতো বাংলাদেশের ক্রিকেট এখানেই থেকে যাবে।’
মিসবাহ উল হক-শহীদ আফ্রিদি পরবর্তী যুগে নিজেদের কতটা সফলভাবে পাকিস্তান মানিয়ে নিতে পারবে তার একটা পরীক্ষা হতে পারে এই সিরিজটাই। ওয়ানডেতে গত সাড়ে তিন বছর ধরে দলকে নেতৃত্ব দেয়া মিসবাহ বিশ্বকাপের পর এই ফরম্যাট থেকে অবসর নিয়েছেন।
বর্ণাঢ্য এক ক্যারিয়ার শেষে ৫০ ওভারের ক্যারিয়ারকে শেষ বলে দিয়েছেন আফ্রিদিও। ফলে বাড়তি দায়িত্ব চেপে বসেছে আজহার আলী-হারিস সোহেলদের মতো তরুণের কাঁধে।
অধিনায়ক তো বটেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আগমনের হিসেবেও খুব তরুণ বলতে হবে আজহারকে। ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে জার্সি গায়ে চাপানো আজহারের অভিজ্ঞতা মাত্র ১৪ টি ওয়ানডের। সর্বশেষ তাকে জাতীয় দলের হয়ে রঙ্গিন পোশাকে দেখা গেছে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে।
কেবল মোহাম্মদ হাফিজ এবং সাইদ আজমল ছাড়া দলের অন্য কারো ১০০ ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতাও নেই। স্পিন বিভাগে সাইদ আজমল ছাড়া আছেন সোহেল এবং সাদ নাসিম। কাল তাদের দু’জনকেই দেখা যেতে পারে।
স্পিনের তুলনায় বরং পেস আক্রমণটা অনেক শক্তিশালী পাকিস্তানের। মুশফিকুর রহীম-তামিম ইকবালদের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবেন পেসারই। ওয়াহাব রিয়াজ এবং জুনাইদ খানের নেতৃত্বে এই বিভাগে আরো আছেন রাহাত আলী-এহসান আদিলরা। ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এরই মধ্যে নিজেদের প্রতিভার প্রমাণ রেখেছেন তারা সবাই।
বাংলাদেশের হয়ে কাল অনেকটা নিশ্চিতভাবে অভিষেক হয়ে যাচ্ছে রনি তালুকদারের। ঘরোয়া টুর্নামেন্টে দারুণ ধারাবাহিকতার পরিচয় দেয়া রনি হয়তো তামিমের উদ্বোধনী সঙ্গী হতে যাচ্ছেন।
আট ব্যাটসম্যান খেলানো না হলে খেলা হচ্ছে না নাসির হোসেনের। প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের হয়ে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে সাত নম্বর ব্যাটসম্যানের জায়গাটা নিশ্চিত করে ফেলেছেন সাব্বির রুম্মন। বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসাবে সাকিবের সঙ্গে থাকছেন আরাফাত সানি।