ঢাকা শহরের মেয়র নির্বাচনের নানা ধরনের শব্দসুর শুনতে শুনতে যখন উড়াল জাহাজে করে শহর কলকাতায় পৌঁছে ভাবছি, এখানে অন্তত সেই পোস্টার আর ক্যানভাসের শব্দের বিরতি পাবো। কিন্তু হায়! এয়ারপোর্ট থেকে নেমেই বুঝলাম নির্বাচনী আবহাওয়ায় এখানেও রেহাই নেই। বরং ‘পুরসভা’র নির্বাচনী ডামাডোলে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএমের নানারকম কথার বাদ্য-বাজনা চলছেই।
সকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা অবধি কলকাতার এন্টালিতে অবস্থিত ঊষা উত্থুপের বিশাল সাইজের স্টুডিওতেই সাধারণত রেকর্ডিং-এর কাজগুলো করা হয় আমার। সেখানে কিছু কাজ শেষ করার পর ট্যাক্সি যোগে গড়িয়াহাট টু দখিনাপন যখন যাচ্ছি তখন নির্বাচনী সাউন্ড পলিউশনের অদ্ভুত এক রকম বুঝতে পারলাম। গড়িয়াহাট এলাকায় বিস্তৃত মাইকে কোনো বিজেপি নেতা বলছেন, ‘এই শহর কলকাতার পরিবেশ নষ্ট করেছে এখানকার সরকার। নিয়ম ছিল কোনো স্কুলের তিন কিলোমিটার এলাকার ভেতরে কোনো শরাবখানা থাকা চলবে না। কিন্তু এখানকার স্কুল-কলেজ থেকে নেমেই ছাত্র-ছাত্রীরা শরাবখানায় ঢুকে যাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে তরুণ-তরুণীরা! এসব শরাবখানার লাইসেন্স কে দিয়েছে?’
এরকম বিরোধীরথের বাদ্য শুনতে শুনতে কলেজস্ট্রীটের দিকে এগুচ্ছি যখন, তখনই এক নেত্রী বলছেন ‘৫ বছর আগের কলেজস্ট্রীট আর আর ৫ বছর পরের কলেজস্ট্রীটের কি পরিবর্তন, কত উন্নয়ন হয়েছে আপনারাই বলুন। এখানে এখন গ্যাস-জল থেকে শুরু করে সবকিছুর কত সুবিধা। আগে কি আপনারা পেতেন?’
আমি বাংলাদেশ থেকে আসা এক পত্রযাত্রী হয়েও স্পষ্ট শুনেই বুঝছি তৃনমূল কংগ্রেসের এই নেত্রী এলাকার উন্নয়নের কথা বলে ভোটের প্রত্যাশাই করছেন।
তবে মজার ব্যাপার হলো যেখানে নেতা-নেত্রী ভাষণ দিচ্ছেন সেখানে সামনে হয়তো ১০/১২ খানা চেয়ার সাজানো আছে। যে চেয়ারে খুবই আলসেমিতে হয়তো দলের কর্মীরা কেউ বসে পান চিবুচ্ছেন, কেউ সিগারেট খাচ্ছেন, কেউ বা চা। অথচ মাইক্রোফোনের সামনে নেতা দারুণ প্রমিত বাংলায় অনেকটা সামনের অশরীরীর দিকে তাকিয়ে বলেই চলেছেন তার দর্শন, তার মতবাদ, তার আশ্বাস। কারণ পুরো একটা এলাকা জুড়ে বা কয়েকটা গলি জুড়ে মাইক দিয়ে মোড়ানো হয়। তাতে স্পষ্ট শোনা যায় নেতার ভাষণ। শহরের মানুষ তাতে দিব্যি কাজ করতে পারছেন, সাথে নেতার ভাষণ শুনেও মনস্থির করছেন কোন বোতামে তার ভোটটা চাপ দেবেন।
২.
এই যখন শহর কলকাতার অবস্থা তখন আনন্দবাজারের নিয়মিত কলামে কবীর সুমন লিখছেন বাংলা গান নিয়ে। কথা হলো তার সাথে সেল ফোনে। এলাকার পুরসভা নির্বাচনের ডামাডোলে কিছু লিখছেন না দাদা? গত দু’দিন ধরে আপনার গান নিয়েই পড়ে যাচ্ছি।
একগাল হেসে কবীর সুমন জবাব দিলেন, ‘ওসব লিখে কি হবে। ওই একই কথার চর্বিতচর্বন। আর লিখলাম তো অনেক, বললামও অনেক, চললামও অনেকদূর। আমি এখনকার গানের যে দূরবস্থা যাচ্ছে তা নিয়ে কেউ তো তাকাচ্ছে না। বাংলাদেশে তবুও তো কিছু সিডি বিক্রি-বাট্টা হচ্ছে। এখানে তো সেটাও একদম নেই!
এই দুরবস্থার অশনিসংকেত যে বাংলাদেশেও চলছে সেই ব্যাপারটাও জানালাম। একই সাথে একটি সিডি রিলিজ বা এখানকার অডিও বাজারের অবস্থা জানার জন্য কিছু মানুষের সাথেও কথা হলো, তাতে বোঝা গেল বাংলা গানের ক্ষেত্রেও এখন দুই বাংলার একটা সংযুক্তির খোঁজ সবাই চাইছেন। অনেক বাংলাদেশি শিল্পীই এখন এখানে একটা জায়গা তৈরির জন্য সিডি রিলিজ করছেন। আবার এখানকার রাঘব, রূপংকর, অন্বেষা থেকে শুরু করে সবাই বাংলাদেশে একটি সিডি রিলিজের ব্যাপারেও খুব মনোযোগী হচ্ছেন। এর পাশাপাশি ওই নতুন শিল্পীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ‘মাছের তেলে মাছ ভাজার’ পরিচিত প্রক্রিয়াও এখানে চলমান।
৩.
এই বাংলার প্রখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী শ্রাবণী সেন তার অগণিত ছাত্র-ছাত্রীদের সিডি বের করার জন্যই নিজেই খুলেছেন একটি অডিও কোম্পানি। নাম দিয়েছেন ‘পিকাসো’। সেখানে ৫০ থেকে ৬০ হাজর রুপির বিনিময়ে সিডি বের হচ্ছে। তাতে থাকছে না কোনো মান-বেমানানের দরকষাকষি। টাকা থাকলেই যে কারো সিডিই তারা বের করছেন। একসময় এইচএমভির মতো কোম্পানিগুলো থেকে বাংলার শিল্পীরা অ্যালবাম বের করলে যেমন গর্বের সাথে সেটিকে আলাদা সার্টিফিকেট মূল্য দিতেন সেই অবস্থা আর নেই। কারণ সেই এইচএমভিও তাদের কোম্পানির শার্টার বন্ধ করে গুটিয়ে পড়েছেন। আগে গলি বা রাস্তার বড়-ছোট শপিংমলে বিরাট বিরাট অডিও বাজার দেখা যেত, এখন তার টিকিটিও নেই।
গানের এই বেহাল অবস্থার ভেতরেও চলচ্চিত্রের গানের মূল শক্তিতেই টিকে আছে কলকাতার নতুন সুরের রাজ্য। আর স্টেজ শো করে বেঁচে আছে শিল্পীদের ‘প্রফেশনালিজম’ শব্দটি।
৪.
এদিকে রাজ্য সরকার যেহেতু এবারে অনেক পরিচিত শিল্পী, অভিনেতা আর শোবিজ কলাকুশলীদের অন্তর্ভূক্ত করেছে তাই প্রতিদিনের পত্রিকা খুললেই তাদের কার্যক্রম দেখা যায়। আর তারকারা কোনো সামাজিক কাজে এগিয়ে এলে তা মিডিয়ার কাছেও বাড়তি প্রচারণা পায়। সেই ধারাবাহিকতায় বিজেপি নেতা কণ্ঠশিল্পী বাবুল সুপ্রিয়’র কার্যক্রম ব্যাপকভাবেই লক্ষ্য করা গেল।
তিনি প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন আর অপজিশন পার্টি নিয়ে নানারকম কথা বলছেন। পত্রিকাতেও সেগুলোই হাইলাইট হচ্ছে।
এই যখন অবস্থা তখন টলিউড মেগাস্টার প্রসেনজিত্ মগ্ন তার নিজস্ব প্রডাকশন ‘আইডিয়াস’ নিয়ে। কারণ এখানকার একটি চ্যানেল অল্প বাজেটে কিছু চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। যে ধারা আমাদের দেশে চ্যানেল আই আজ থেকে এক যুগ আগেই শুরু করেছে। তো সেই চ্যানেলেই টানা ৬টি ছবি নির্মাণের কাজ পেয়েছেন প্রসেনজিত্। সাথে নিজের রেগুলার ছবির কাজ তো রয়েছেই। এত ব্যস্ততার ভেতরে সামাজিক কাজ বা এই পুরসভা নির্বাচনে কারো পক্ষে ক্যাম্পেইনের সাথে থাকেননি আপনি, কেন? এই শহরের সবাই তাকে ‘বুম্বা দা’ নামেই চেনেন।
তো বুম্বাদা’কে এমন প্রশ্ন করতেই তিনি একগাল হেসে বলেন, ‘ওই কারণেই তো আমার সেক্রেটারিকে কোনোরকম পলিটিক্যাল ফোন এলেই টেকনিক্যালি না করার কায়দা-কানুন শিখিয়ে দিয়েছি। দেখুন অমুক পার্টির হয়ে ক্যাম্পেইন করবো তো আরেকজন বেজার হবেন। আরেকজনের করলে আবার আরেকজন। এভাবে নিজের কাজটা করবো কখন। আর এখন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির যে অবস্থা তাতে দুই বাংলার জয়েন্ট ভেঞ্চারের বিষয়টিও এখনও সুরাহা হলো না। আমরা আবেগপ্রবণ হয়ে নিজ নিজ জাতিস্বত্ত্বা নিয়ে বসে আছি। আগে তো আমাদের বাঁচতে হবে, নাকি?
আপনিই বলুন বাংলাদেশের ফিল্মের বাজার কি ভালো? তাহলে একসাথে কাজ করলে ক্ষতি কি?
প্রসেনজিৎনিজেই যখন এমন প্রশ্ন ছুড়লেন তখন আবারও পুরোনো কাসুন্দি ঘাঁটার মতোই জানতে চাইলাম, তাহলে এতই যখন দুই বাংলার কোলাকুলি করাতে চাইছেন দাদা তখন ক্রিকেট বিশ্বকাপের সময় অমন স্ট্যটাসটা কেন লিখলেন-
দিব্যি কেটে প্রসেনজিত্ বললেন, ‘দেখুন, বিশ্বাস করুণ, আমি ওটা লিখিনি। আমি জানি এই ব্যাখ্যা এখন কেউই বিশ্বাস করবে না। ওটা লিখেছে আমার সেক্রেটারি। ও নিজেই সবসময় একটা ড্রাফট করে আমাকে দেখিয়ে নেয়। কিন্তু এটা আমি লিখিনি, পরে দেখেছি, ততক্ষণে পোস্ট হয়ে গেছে।’
ব্যাপারটা কি সালমান খানের ওই হিট এন্ড রান মামলার মতো হয়ে গেল না? এতদিন পর সালমানের ড্রাইভার কহিলেন, তিনিই গাড়ি চালিয়েছিলেন। হাসতে হাসতে বলা এ কথাগুলোর জবাবে আবারও বুম্বাদা বললেন, ‘বিশ্বাস করুণ। বাংলাদেশে আমার অগণিত ভক্ত। আমি কেন তাদের রাগাতে যাবো।’
টলিউডের আরেক সুপারস্টার দেব থাকেন সাউথসিটিতে। দেব যে ফ্ল্যাটে থাকেন, ঠিক একই টাওয়ারেই আমি আমার বন্ধুর বাসায় উঠেছি। তাই সকাল-দুপুরেই দেখা হচ্ছে দেব-এর সাথে। দেবের পলিটিক্যাল লিডার হিসেবে ওর ব্যস্ততার বিষয় জানতে চাইলে, ফিসফিসিয়ে বলেন, ‘আমি আমার এলাকার জন্য জানপ্রাণ দিচ্ছি। ওখানকার সমস্যা নিয়ে নিয়মিত এলাকার মনুষের সাথে কথা হচ্ছে আমার। কিন্তু এ শহরের পুরসভার ক্যানভাস বা কারো সমর্থনে সময় দেবার মতো সময় কোথায় বলুন? এ কারণেই টেকনিক্যালি এড়াতে হচ্ছে সবকিছু।’
সবাই যখন টেকনিক্যালি বিভিন্ন পলিটিক্যাল ক্যাম্পেইন এড়ানোর কথা বলছেন তখন খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম নির্বাচনের আগে প্রায় সকল তারকাই তাদের সেলফোন খুব সাবধানে ব্যবহার করছেন। কোনো নেতার ফোন মানেই তারকার ভীষণ জ্বর। এখনই হাসপাতালে যেতে হবে !
৫.
একদিন আগে পরে দুই বাংলার বৈশাখের চর্চা হয় এ নিয়ে ‘ভিন্ন চোখে’-তে ফিচারও ছেপেছি আমরা গত সংখ্যায়। এবারে দিব্যচোখে এই পার্থক্যটা দেখছি। বিভিন্ন সুপার মলে যখন স্বাগত জানাচ্ছেন কেউ কেউ ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার ইন বেঙ্গলি’ বলে তখন পাশ থেকে এক বয়স্ক ভারতীয় মহিলা সেলসগার্লকে বকে বলছেন ‘এই মেয়ে অন্তত পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছাটা বাংলায় বলতে শেখো।’ পুরো কসমোপলিটন শহরের এই এক অদ্ভুত হাল! অগ্রজরা বাঙালি সংস্কৃতি আঁকড়ে বাঁচতে চাইছেন। তরুণরা সেটা বিলুপ্তির হরেক উপদান নিয়ে ব্যস্ত।
১৪২২ সালকে স্বাগত জানাতে নিয়মিতভাবে এখন বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজন করে নববর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানের রকমফের দেখতেই কবি অমিত গোস্বামীর সাথে দুই বাংলার মিলন মেলার উেসব যাওয়া হলো। দেখা মিললো এখানকার কর্তাব্যক্তি জকি জাহাদের সাথে।
নানারকম পিঠা উত্সব, সাথে গান, কবিতাপাঠ আর নাচ। কবি বা লেখক হিসেবে দুই বাংলার তেমন কোনো বিখ্যাত লেখককে না চোখে পড়লেও অনুষ্ঠানের আন্তরিকতা ছিল চোখে পড়ার মতো। বাংলাদেশের কবি শাহানা পারভীন এসেছিলেন।
তিনি কবিতা পড়ে শোনালেন। কথা হলো কবি মৃণাল বসু চৌধুরীর সাথে। তার সাথে আমাদের প্রখ্যাত লেখক আবু হাসান শাহরিয়রের অনবদ্য গদ্যগ্রন্থ’র কথা আলোচনা করতেই তিনি বললেন, ‘বাংলাদেশের তরুণরা এসব বই পড়েন। এখানে তো বাংলা বড্ড অবহেলিত।’ কবি মৃণাল বসুর কথার সুর ধরেই বোঝা গেল অবস্থাটা।
তিনি বৈশাখ উদযাপন নিয়েও বেশকিছু কথা তুললেন। কারণ চৈত্র সংক্রান্তি বা নববর্ষের সেই আয়োজনের ছাপ কোথায়? না আছে পোশাকে না আয়োজনে। বরং বাংলাদেশ হাইকমিশনের এই আয়োজনে দুই বাংলার মিলন মেলায় কিছু গান, কবিতায় নববর্ষের কিছুটা স্বাদ পাওয়া গেল।
৬.
চৈত্র সংক্রান্তির দুপুরে কবি জয় গোস্বামীর বাড়িতে নিমন্ত্রণ ছিল। সল্টলেকের শুনশান সরকারি কলোনীতে গেলেই দেখলাম কবি জয় গোস্বামী তার পোষ্য অতিপ্রিয় কালো বেড়ালকে আদর করছেন। সাদামাটা ঘর গেরস্থিতে ব্যস্ত কবিপত্নী কাবেরী।
আমরা বাংলাদেশ থেকে এসেছি শুনেই বললেন তোমাদের দেশে যে আয়োজনে বৈশাখ হয় আমরা ভাবতেই পারি না। মাত্র কিছুদিন আগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘হে ফেস্টিভ্যালে’ কবি শামীম রেজার উদ্যোগে জয় গোস্বামী সস্ত্রীক গিয়েছিলেন ঢাকায়। একটি আড্ডা আলাপে অংশ নিয়েছিলেন। তখন কবির সাথে দীর্ঘ আড্ডার সঙ্গী ছিলাম। সেখানকার স্মৃতিকথাও তুললেন কবি।
তবে কলকাতার নির্বাচনী হাওয়া নিয়ে কথা তুলতেই বললেন, ‘ওসব আমি জানি না গো। ওসব শ্রীজাত‘দের জিজ্ঞেস করো। ও তো একটি সরকারি পদক প্রত্যাখ্যান করে হৈ চৈ বাঁধিয়ে দিয়েছে। আমি সে সময় অবশ্য কলকাতায় ছিলাম না। তাই মিডিয়াকে এ নিয়ে আমার মন্তব্য বলা থেকে বেঁচে গেছি।’
এ সময়ের তরুণ সাংস্কৃতিক কর্মীদের প্রতি কবির অনেক উচ্চাশার কথা শোনা গেল। আর বাংলা বাঁচানোর কথা তুলতেই কবি বললেন, ‘এটা এখন বাংলাদেশেরই দায়িত্ব। ঢাকা-ই বাংলার রাজধানী। রাজধানীকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এ বিষয়ে।’
কবিপত্নী কাবেরী নববর্ষ উদযাপনের মতো করেই খাবার পরিবেশন করলেন। বললেন, ‘এই তোমরা এলে যেন মনে হলো নববর্ষ এলো। আমরা নিজেরা খুব পালন করি।’ জয়’দাকে জিজ্ঞেস করলাম নববর্ষের দিনে তো নানা মাত্রার সাংস্কৃতিক আয়োজনে আপনার ব্যস্ত থাকার কথা-
তিনি বললেন, ‘ওসব এখানে হয় না গো। খুবই অল্প বিস্তর। খুঁজে খুঁজে নববর্ষ পালন দেখতে হবে তোমার। আর আমার শরীরটাও আগের মতো নেই তাই খুব একটা বাইরেও বের হই না। অফিস বলতে সংবাদ প্রতিদিনে যাই। সেটিও প্রতিদিন না গেলেও চলে।’
৭.
দুপুর গড়িয়ে জয় গোস্বামীর বাড়ির উঠোনে তখন ক্লান্ত রোদ, কিন্তু উষ্ণতার তীব্রতা আছে প্রকট। সেই রোদ পেরিয়ে ট্যাক্সির জানালায় আমার মোবাইল ক্যামেরায় কিছু বৈশাখকে ধারণ করতে চাইলাম। নববর্ষের রঙকে ফ্রেমবন্দী করতে চাইলাম। কিন্তু হায়! কোথায় রং? কোথায় উত্সব এই বাংলায়! ঢাকার বৈশাখে রাস্তায় হাঁটলে যেকোনো অন্ধও বলে দিতে পারে ‘বৈশাখ এসে গেছে’।
কলকাতার প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাসগুপ্তের বাড়িতে এক আড্ডায় সেদিন বলেছিলাম এ কথাগুলোই।
ইন্দ্রদীপকে বলেছিলাম, আপনার ‘বসন্ত এসে গেছে’ গানটি খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছে। জবাবে বেশ বিজয়ী ঢঙে তিনি বললেন, ‘হুমম.. এ বাংলায় সবার মনেই বসন্ত কি-না। তবে শুনেছি বাংলাদেশেও গানটি খুব জনপ্রিয়।’
আমি বললাম, ইন্দ্র’দা, আপনি কিন্তু এ বাংলায় বসে ‘বৈশাখ এসে গেছে’ এমন সুর হাজার চাইলেও করতে পারবেন না। আমি বাজি ধরলাম। কারণ বৈশাখ তো এ বাংলায় আসে ক্ষীণকায় রুগ্ন প্রকৃতির নিয়মে কিংবা প্রাকৃতিক গোলযোগ কালবৈশাখীর সাজে। এছাড়া এখানকার নববর্ষের কোনো রং নেই।
ইন্দ্রদীপ দাসগুপ্ত আমার কথা শতভাগ মেনে নিয়ে বললেন, ‘একদম খাঁটি কথা বলেছো তানভীর। কি করবো বলো, এখানে তো বাংলা গানেও যে যত পারছে, হিন্দি, উর্দু, ইংরেজি ঢুকিয়ে দিচ্ছে।’