শিল্পমন্ত্রী আমীর হোসেন আমু বলেছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের, সরকারের নয়। যদি কেউ পেট্রোলবোমা হামলা বা নৈরাজ্যের মামলার আসামি হয় তাহলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতেই পারে। আমাদের দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের, সরকারের নয়।
শুক্রবার মেহেরপুরের মুজিবনগরে শেখ হাসিনা মঞ্চে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
মুজিবনগর দিবস উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, ফজলে হোসেন বাদশা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
আমু বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর ষড়যন্ত্র নতুন কিছু নয়। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন নিয়ে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন সেই লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার, আর তাতে বাধা দিচ্ছে বিএনপি-জামায়াত জোট। ওরা স্বাধীনতা ও দেশের শত্রু।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ৯৬ সালে একটিও গুলি খরচ না করে এই দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সন্ত্রাস দমন করেছিলাম। সেই সময় সব সন্ত্রাসী স্যারেন্ডার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছে।
তিনি বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার মতো পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করিনা। আমরা মানুষ হত্যার রাজনীতিকে ঘৃণা করি। ঘৃণা করি ওইসব হত্যাকারীদের। তাই যারা আমাদের মা-বোনকে পুড়িয়ে হত্যা করে তাদের সাথে কোন আপোষ হতে পারে না।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই মুজিবনগরেই প্রথম সরকার গঠিত হয়। যদিও সেটা অস্থায়ী সরকার ছিলো। এরপর বাংলাদেশের বৈধ সরকার হোক বা অবৈধ সরকার হোক, সামরিক হোক বা বেসামরিক, নির্বাচিত হোক সব সরকারের শুরুই এখান থেকে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাংলাদেশের প্রথম সরকারকে কেউ বলেন অস্থায়ী সরকার, কেউ বলেন মুজিবনগর সরকার। এটা আসলে বাংলাদেশের প্রথম সরকার। ৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত প্রথম সরকার ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরের এখানে দাঁড়িয়েই শপথ নিয়ে নয় মাস যুদ্ধ পরিচালনা করে। সেদিন যদি সরকার গঠন না করা হতো তাহলে আমরা আন্তর্জাতিকভাবে কোন স্বীকৃতি পেতাম না।
এর আগে সকালে আওয়ামী লীগের পক্ষ্য থেকে মেহেরপুরের সেই ঐতিহাসিক মুজিব নগরের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং মন্ত্রীরা। পরে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলনের পর মুক্তিযোদ্ধা, বিজিবি, পুলিশ, আনসার, বিডিপি স্কাউটদল এবং স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা গার্ড অব আনার প্রদান করে।