গত মঙ্গলবার নববর্ষের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় একাধিক নারীর উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নারীদের উপর একাধিক যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। আগের ঘটনাগুলোর যথাযথ বিচার হয়নি বলেই এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
তারা আরও বলছেন, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা র্যাব, পুলিশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এই ঘটনার দায় এড়াতে পারে না। সাধারণত বড় কোন উত্সবের আগে সংবাদ সম্মেলন করে তারা কঠোর নিরাপত্তা দেয়ার কথা বলে । আর এতে আশ্বস্ত হয়ে সেদিনও সাধারণ মানুষ পহেলা বৈশাখের উত্সবে এসেছে। তাই এই ঘটনার সকল দায়দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকেই নিতে হবে। পহেলা বৈশাখের এই ঘটনা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আগে ঘটে যাওয়া সকল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
জানা গেছে, এর আগে ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর টিএসসির সামনে ‘থার্টি ফার্স্ব নাইট’ উদযাপনের সময় শাওন আক্তার বাঁধন নামের এক নারীর শ্লীলতাহানি করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় মামলাও হয়েছিল। সেই মামলায় রায় হয় ২০১০ সালে। এতে সব আসামিকেই খালাস দেয়া হয়।
তখন ওই ঘটনাটি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে সারাদেশে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। সমালোচনা হয় দেশের বাইরেও। যদিও সেই সময় বাঁধনের ঘটনা প্রকাশিত হলেও অপ্রকাশিত থেকে যায় একই দিন আরও ৭ থেকে ৮ জন নারীর শ্লীলতাহানির ঘটনা। কেননা বাঁধন ছাড়া অন্য কেউ মুখ খুলেন নি। বাঁধনের বিষয়টি নিয়ে তখন সংসদেও আলোচনা হয়।
এই ঘটনায় ২০০০ সালের ৬ জানুয়ারি বাঁধন বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা করেন। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে একই বছরের ১৪ মে অভিযুক্ত ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। ১০ বছর ধরে চলা ওই মামলায় পরে সবাই খালাস পায়।
এছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলা একাডেমির অমর একুশে বই মেলায় একাধিক নারী শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় দুর্বৃত্তের ছবিও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ ।
সর্বশেষ ঘটনাটি প্রসঙ্গে মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, সকল ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুর্বৃত্তদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে যে ছবি নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে সেটা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছবি। ছবিটিকে অনেকে অতিরঞ্জিত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, এই ঘটনা নিয়ে কারও কাছে কোন তথ্য থাকলে আমাদের সহায়তা করুন। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া এই ঘটনা তদন্তে শক্তিশালী একটি টিম কাজ করছে বলেও তিনি জানান ।