গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে একজনকে বিবস্ত্র করার ছবিটি কোন নারীর নয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের হাতাহাতির সময় ছাত্রলীগ কর্মী নাজমুলকে বিবস্ত্র করার ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। ঐ ছবিটি ফেসবুক ও গণমাধ্যমে প্রকাশ করে দাবি করা হয় যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসিতে এভাবে নারীদের বিবস্ত্র করেছে বখাটেরা। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে দেখতে পেয়েছে, বিবস্ত্র করার স্থানটি চাঁনখারপুলে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের হাতাহাতির সময় ছাত্রলীগ নেতা নাজমুলকে বিবস্ত্র করা হয়। ঐ সময় একজন গণমাধ্যম কর্মী বাসের ভিতর থেকে তার মোবাইল ফোনের ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলেন। ঐ ছবিটি ফেসবুকে আপলোড করার পর তা টিএসসিতে নারীদের বিবস্ত্র করার ছবি বলে স্ট্যাটাস দেয়া হয়। এরপর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় হয়।
এ ব্যাপারে ডিবি’র উপ-কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় বলেন, ছবিটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা টিএসসির নয়। একজন পুরুষকে বিবস্ত্র করার ছবি ফেসবুকে আপলোড করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এর সত্যতা মিলেছে।
অন্যদিকে, বর্ষবরণের দিন টিএসসিতে নারীদের উত্ত্যক্ত করার ভিডিও ফুটেজ খুঁজছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে স্থাপিত ১৯ টি সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পুলিশ তদন্ত করে দেখতে পেয়েছে যে টিএসসি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারীদের উত্ত্যক্ত করার ঘটনা ঘটেছে। তবে সেখানে নারীদের বিবস্ত্র করা বা তাদের শরীরে হাত দেয়ার কোন ভিডিও ফুটেজ পায়নি পুলিশ। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ঘটনার সময় ঢাবি ছাত্র ইউনিয়ন শাখার সভাপতি লিটন নন্দীসহ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী পাঁচজনকে আটক করে পুলিশের হাতে দেয়। ঐ পাঁচজনকে পরে পুলিশ ছেড়ে দেয়। ঐ পাঁচজন বখাটে নিয়মিত টিএসসিতে আড্ডা দেন। তারা টিএসসিতে খুবই পরিচিত মুখ। এ কারণে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা জানান, নাজমুল হাসান রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি ছাত্রলীগের সাধারণ কর্মী। বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের দিন চাঁনখারপুল এলাকায় ছাত্রলীগ জাবি শাখার দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঐ সময় ছাত্রলীগের এক গ্রুপের কর্মীরা নাজমুলের পরণে লাল রঙের ফতুয়া খুলে ফেলে। এ ঘটনার পর ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি নাজমুলকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করে।
অন্যদিকে, ডিবি’র একটি তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঐ ছবি সঠিক না হলেও টিএসসিতে নারীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লিটন নন্দী যে অভিযোগ করেছেন তা তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের কোন গাফিলতি ছিল কিনা তাও তদন্ত করছে পুলিশ।
গত তিন দিনের তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে মামলার তদারক কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ইব্রাহিম ফাতেমী বলেন, ঘটনায় জড়িতদের সনাক্ত করতে ভিডিও ফুটেজ যাচাই বাছাই চলছে। পহেলা বৈশাখের দিন ঢাকা বিশ্ববিদালয় এলাকার টিএসসি কেন্দ্রীক যতগুলো ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা ছিল তার সবগুলো সংগ্রহ করে তদন্ত চলছে। তবে সিসিটিভি’র ভিডিও ফুটেজে ঘটনাস্থলে মানুষের ভিড়ের মধ্যে ধাক্কা-ধাক্কির চিত্র দেখা গেছে। কিন্তু কেউ একজন বা একাধিক লোকজন মিলে একজন নারীকে হেনস্থা করার চেষ্টা করছে এমন চিত্র এখনও মেলেনি। তবে তদন্ত থেমে নেই। সেদিনের প্রত্যক্ষদর্শীদের সহযোগিতা নিয়ে আসামিদের সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে নারী লাঞ্ছনার ঘটনাকে ‘কথিত অপ্রীতিকর ঘটনা’ উল্লেখ করে শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে তথ্য আহ্বান করা হয়। সেখানে বলা হয়, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি মোড় সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশ পথে কথিত অপ্রীতিকর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তথ্য প্রদানের জন্য নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। উক্ত অনাকাঙ্খিত ঘটনার সংশ্লিষ্ট যেকোনো তথ্য (স্থিরচিত্র, ভিডিও ফুটেজ, রেকর্ড/দালিলিক প্রমাণাদি) যদি কারো কাছে থাকে তা প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।