মত্স্য সম্পদ আহরণ এবং মত্স্য উত্পাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় আলাদা গতির সঞ্চার করতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। বাংলাদেশের মত্স্যখাতে বঙ্গোপসাগর, দেশের বিভিন্ন নদী, খাল, বিল, হাওর, পুকুর দীঘিগুলো বিশাল ভাণ্ডার হিসাবে বিবেচিত হলেও নানা অব্যবস্থা, অসচেতনতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা, দুর্নীতি, পুঁজি ও উদ্যোক্তার অভাবে এই ভাণ্ডার পরিপূর্ণভাবে উত্পাদনে ভূমিকা রাখতে পারছে না। বর্তমানে ২৫০ জাতের মিঠা পানির মাছ এবং বিপরীতে সাগরে রয়েছে অন্তত ৪৩৫ প্রজাতির মাছ। এখন বঙ্গোপসাগরে প্রতিবছর ৮০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন মাছ ধরা পড়ে। এর মধ্যে মাত্র শূন্য দশমিক ৭০ মিলিয়ন টন মাছ বাংলাদেশের মত্স্যজীবীরা আহরণ করে। যার সঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৩০ লাখ মানুষের জীবিকা জড়িত।
ভারত ও মিয়ানমারের কাছ থেকে মীমাংসিত সমুদ্রসীমায় মাছের উত্পাদন বাড়াতে উদ্যোগ গ্রহণ করছে মত্স্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়। এ জন্য সমুদ্রসীমায় দস্যুতা ও বিদেশি ট্রলারের অনুপ্রবেশ রোধে জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার মধ্যে যে বিশাল পরিমাণ মত্স্যসম্পদ রয়েছে তা আহরণ করতে পারছে না এখানকার জেলেরা। ৮০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন মাছের মধ্যে তারা মাত্র ৭০ মিলিয়ন টন মাছ ধরতে পারছে। অবশিষ্ট মাছের বড় অংশই ধরে নিয়ে চলে যাচ্ছে থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ভারত ও অন্যান্য পার্শ্ববর্তী দেশের সশস্ত্র জেলেরা। বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের সামুদ্রিক মাছের বিশাল চাহিদা রয়েছে। আধুনিক যান্ত্রিক সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে এবং আমাদের জেলেদের দক্ষতা ও সক্ষমতাকে বাড়িয়ে সামুদ্রিক মত্স্য আহরণের পরিমাণ অনেকগুণ বাড়ানো সম্ভব। দ্রুততম সময়ের মধ্যে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার জটিলতা দূর করতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। চিংড়ি ও মত্স্যসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী চিংড়ি চাষিদের এক অঙ্কের সুদের ঋণ দেয়া, মত্স্য অধিদপ্তরের জনবল বাড়ানো, হালদা নদী রক্ষা ও তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় মাছ চাষের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করায় মত্স্যখাতে উত্পাদন বৃদ্ধির বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা যায়। তিনি ইলিশ ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের প্রস্তাব পরীক্ষার জন্যও বলেছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে মাছের উত্পাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কৃষির অন্যান্য খাত-উপখাতের তুলনায় মাছের উত্পাদন বাড়ার হার বেশি। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে মাছের উত্পাদন হয়েছে ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার মেট্রিক টন। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ উত্পাদনে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ বন্ধ জলাশয় থেকে মাছ উত্পাদনে বাংলাদেশ পঞ্চম। মোট দেশজ উত্পাদনে মাছের অবদান ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। দেশের মোট ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ মত্স্যখাতের ওপর নির্ভরশীল। বিগত পাঁচ বছরে এখাতে বছরে সাড়ে ছয় লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।