দুই বাংলার চলচ্চিত্র নিয়ে যখন নানা মুনীর নানা মত শোনা যাচ্ছে। এর ভেতরে টলিউডের শীর্ষ নায়ক প্রসেনজিত্ আবারও গৌতম ঘোষের একটি চলচ্চিত্রের কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছেন। দুই বাংলার চলচ্চিত্র ও সাম্প্রতিক ফেসবুক স্ট্যাটাস’সহ বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়েই কলকাতায় শুটিং সেটে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে-
কেমন আছেন?
এই তো দেখতেই পারছেন, পুরো কলকাতা জুড়ে নির্বাচনের উত্সব। আর এখন তো আমাদের মূখ্যমন্ত্রী টলিউডপাড়াকে এমনভাবে জড়িয়েছেন যে এখানে নির্বাচনে গ্ল্যামার বা তারকা না থাকলে যেন আর চলছে না। আমি অবশ্য এটাকে মোটেই নেতিবাচক হিসেবে দেখছি না।
আপনার কাছেও কি এখন নির্বাচনের ক্যাম্পেইনে যাবার অফার আসছে-
দেখুন, শুধু আমার কাছে না, পুরো টলিউডের সবার কাছেই ফোন যাচ্ছে। অমুক কেন্দ্রের প্রচারণায় যোগ দিতে হবে। শুটিং প্যাকআপ করে চলে এসো। কিন্তু হুট করে তো আর শুটিং ফেলে ভোটের প্রচারে যাওয়া যায় না। আর এটা তো আমার বা আমাদের কাজ নয়।
এখানে এসে অনেকের কাছেই শুনলাম এই প্রচারণায় অংশ নিতে হবে বলে অনেকেই নিজের সেল ফোনটা ঠিকঠাক ধরছেন না। কারণ কখন কোন দল থেকে অর্ডার আসে-
তা একেবারে মন্দ বলেননি। আমি আবারও বলছি এটাকে আমি খারাপ চোখে দেখি না। কিন্তু যাদের কাজ নেই, স্বেচ্ছায়, নিজের অবসর সময়ে কেউ কারো পক্ষে ভোট চাইতেই পারে। কিন্তু শুটিং প্যাকআপ করে যাওয়াটা তো মুশকিল।
অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলীর জনসভায় হামলা হলো, এটাকে কিভাবে দেখছেন-
এই যে দেখুন আপনি কি আমার ফিল্ম বা বাংলাদেশের ফিল্ম নিয়ে শুনতে চান, না পলিটিক্স নিয়ে। পলিটিক্স হলে আমায় মাফ করবেন। ওসব নিয়ে আমি ভালো-মন্দ মন্তব্য করতে পারবো না। তবে অবশ্যই একজন শিল্পী হিসেবে এক শিল্পীর প্রতি এমন আঘাতের নিন্দা জানাই।
আচ্ছা নো মোর পলিটিক্স। বুম্বাদা আপনাকে নিয়ে তো আমাদের দেশে হরহামেশাই নানারকম খবর ছাপা হচ্ছে। অনেক নবাগতাও ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের সাথে জুটি বেঁধে কাজ করছেন নাকি? আপনি বাংলাদেশের ক’জন নায়িকার সাথে কাজ করছেন-
দেখুন এগুলোর প্রত্যেকটিরই কোনো ভিত্তি নেই। আমি আপাতত গৌতম দা (গৌতম ঘোষ)’র ছবিটিই করছি, যেটাতে আমার সাথে কাজ করছেন বাংলাদেশের কুসুম শিকদার।
শুনলাম এখানে একটি চ্যানেলের প্রযোজনার ছবিতে কাজ করছেন। সেটাও একটি দুটি নয়, ৬টি ছবিতে-
হ্যাঁ, এটা বাংলা চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে একটা নতুন কনসেপ্ট। কারণ এই ছবিগুলো সিনেমা হলের জন্য নয়। ছবিগুলো তৈরি করাই হচ্ছে টিভিতে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের জন্য। তবে পরে কিছু সিনেমা হলেও চলতে পারে। প্রধান উদ্দেশ্য টিভি প্রিমিয়ার।
কিন্তু এটা তো বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য প্রথম কিছু নয়। বরং আমাদের দেশে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ছোট-বড় বিভিন্ন বাজেটে এইরকম কনসেপ্টে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। আপনারা কি সেই কনসেপ্টেই কাজ করছেন?
সেটাও বলতে পারেন। তবে চলচ্চিত্রের জন্য ইমপ্রেস টেলিফিল্ম যেমন এগিয়ে এসেছে তেমনি এখানেও একটি চ্যানেলের সাথে আমার প্রতিষ্ঠান ‘আইডিয়াস’ কাজ করছে। ওরা আরও ছবি করবে। তবে প্রথম ছ’খানা ছবি আমরা তৈরি করবো। এখানে অল্প বাজেটে দারুণ কিছু গল্প আমরা তুলে ধরবো।
দুই বাংলার চলচ্চিত্রের বাজার তৈরি নিয়ে আপনি অনেক জায়গাতেই বলেছেন, ফেসবুকেও স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে এই সম্পর্ক বা ব্যবসায়িক দিকের কতটা উন্নয়ন হয়েছে বলে মনে করেন?
দেখুন একটু সময় লাগবে। একদিনে তো আর হবে না। আর দুই বাংলার জাতিস্বত্তা, স্বার্থ সবকিছুই ম্যাটার করে। বাংলাদেশ থেকে অনেক অভিনেতা-নির্মাতাই... আমি এই মুহূর্তে নাম বলতে চাইছি না। তারা জয়েন্ট ছবি করতে চায়, কিন্তু মিডিয়ার ভয়ে এগুতে পারছে না বা বিভিন্ন নিয়মের বেড়াজালে আটকে আছে। আমার মতে দুই পক্ষ যত তাড়াতাড়ি একটা সিদ্ধান্ত নেবে ততই মঙ্গল। এছাড়া এখানে বাংলাদেশি চ্যানেল দেখা যায় না এটাও একটা সঙ্কট। সবকিছুর সমাধান করে বাংলা সিনেমার বাজারটা বড় করলে সবার লাভ।
এবারে ক্রিকেট বিশ্বকাপের সময় আপনার দেয়া স্ট্যাটাস নিয়ে বলুন-
হা হা হা। আমিও অপেক্ষায় ছিলাম আপনি কখন এই প্রশ্নটি করেন। দেখুন, জানি বিশ্বাস করবেন না। ওই স্ট্যাটাসটি ওই সময় আমার সেক্রেটারি দিয়েছিল, আমি দেইনি। আমার সেক্রেটারিই ওটা মেইনটেইন করে। আর ওটা স্রেফ একটি ছবির ডায়লগ ছিল। পরে যখন আমি নিজেই দেখলাম, ততক্ষণে সবার প্রতিক্রিয়ায় ভয়াবহ কাণ্ড বেঁধে গেছে।
বুম্বা’দা এটা তো আবার ওই সালমান খানের হিট এন্ড রানের কেসটার মতো হয়ে গেল না! অনেকদিন বাদে হঠাত্ আবিস্কার হলো যে ওই দূর্ঘটনার সময় সালমান না তার ড্রাইভারই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। কারণ পুরো ঘটনায় আপনার বাংলাদেশি ভক্তরা ভীষণ আহত হয়েছে।
আমি জানি বিশ্বাস করবেন না। কিন্তু এটাই সত্য। আমি আবারও বলছি, আমি আলাদা দেশ হিসেবে নয় এক বাংলার দর্শক হিসেবে একইরকমভাবে ট্রিট করি দুই বাংলার দর্শকদের। কারণ তাদের জন্যই আমি আজ প্রসেনজিত্। তাই ভুল বুঝবেন না আমায়।
এবারে ইন্ডাষ্ট্রি নিয়ে একটা প্রশ্ন করতে চাই। টলিউডের স্ক্রীপ্টে এখন বলিউড প্রডাকশন কাজ করছে, অনুপম হিন্দি ছবি মিউজিক করছে, একাধিক শিল্পীর হিন্দিপাড়ায় আনাগোনা। আপনি তো পুরোপুরি এই বাংলা চলচ্চিত্রের জন্যই প্রাণান্ত করে আজকের অবস্থানে এলেন। এতটা আত্মনিয়োগ করে আর কে আছে, কাকে দেখছেন নতুন প্রজন্মে-
দেখুন ওইসব ব্যোমকেশ বা অন্য কোনো প্রসিদ্ধ সিক্যুয়েলে কাজ করে কিসসু হবে না। ইন্ডাষ্ট্রিতে নিজের একটা স্টাইল, নিজের মতবাদ নিয়ে কিছু উপহার দিতে পারলে নিজের একটা অবস্থান দাঁড়ায়। তবেই সেই হিরোর একটা আত্মপরিচয় তৈরি হয়। আমি খুবই হতাশা নিয়েই বলছি, এমন ছেলে একেবারেই দেখা যাচ্ছে না। হুট করে পুরোটা হিট চরিত্রে কাজ করে বক্স অফিস ফাটিয়ে দিলেই হয় না।