ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের কাউন্সিলর প্রার্থী

মামলা থেকে ১৬ প্রার্থীর অব্যাহতি নিয়ে বিভ্রান্তি

 
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ১৬ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মামলা থেকে অব্যাহতির সময়কাল নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।
 
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, ওই ১৬ জনের মামলা প্রত্যাহার বা অব্যাহতির সঙ্গে সিটি নির্বাচনের কোন সম্পর্ক নেই। তাদের মামলাও অনেক পূরণো এবং সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বহু আগে তারা এসব মামলার দায় থেকে রেহাই পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশনে সংরক্ষিত হলফনামা পরীক্ষা করেও এর সত্যতা মিলেছে।
 
এদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ১৬ প্রার্থীর কয়েকজন ইত্তেফাককে এসে অভিযোগ করে বলেছেন, একটি পত্রিকা উদ্দেশ্যমূলকভাবে সরকারকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য এই বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ পরিবেশন করেছে। তারা বুঝাতে চায় বিএনপির প্রার্থীরা মামলার জালে আটকা পড়েছে এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা মামলা থেকে রেহাই পেয়ে যাচ্ছেন।
 
১৬ প্রার্থীর হলফনামা অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ১৬জন প্রার্থীর অধিকাংশ মামলা বিগত বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলকভাবে করা হয়েছিল।
 
আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে এসব মামলাগুলো করা হয়। গত আওয়ামী লীগ সরকার থেকে তাদের অব্যাহতি দিয়েছে অথবা প্রত্যাহার করেছে। আবার আদালতের মাধ্যমে অনেকে খালাস পেয়েছেন।
 
 
এর মধ্যে রাজনৈতিক হয়রানীর শিকার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী সলিম উল্লাহ সলুর বিরুদ্ধে ৩০২/৩৪ দণ্ডবিধিতে চারটি মামলা ছিল। এর মধ্যে সব কটি থেকেই অব্যাহতি বা খালাস পেয়েছেন তিনি।
 
৪ নম্বর ওয়ার্ডের জামাল মোস্তফার বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে পাঁচটি মামলা ছিল। ৪টিই করা হয় বিএনপি সরকারের আমলে। ৪টির মধ্যে একটি আদালত থেকে খালাস ও তিনটি প্রত্যাহার করা হয়। পরে আরেকটি মামলায় পুলিশ রিপোর্ট অব্যাহতি পান তিনি।
 
৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুর রউফও বিএনপির আমলে দায়ের করা দুটি মামলায় আদালত থেকে অব্যাহতি পান।
 
 ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী সফিউল্লার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ কর্মী মনু হত্যার অভিযোগে ২০০২ সালে তেজগাঁও থানায় মামলা হয়। তিনি অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি পান। তাকে পরিকল্পিতভাবে বিএনপি সরকার ফাঁসায়।
 
২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ঢাকা উত্তরের আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরিদুর রহমান খানের বিরুদ্ধে বিএনপির আমলে মোহাম্মদপুর থানায় করা ৩০২/৩৪ ধারায় করা মামলা থেকে তাঁকে অব্যাহতি পান।
 
ঢাকা উত্তর সিটির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী কাজী জহিরুল ইসলাম ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মোবাশ্বের চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলা এখনো চলমান রয়েছেন।
 
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাার্থী আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে ৩০২ ধারায় মামলা হয়।
 
এ ছাড়া রাজনৈতিক কারণে ২০০৭ সালে দুটি মামলা হয়। এসব মামলা পরে সরকার প্রত্যাহার করে নেয়।
 
৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী মোহাম্মদ আসরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে দুটি মামলা হয়, তা থেকে তিনি অব্যাহতি পান।
 
৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী সুলতান মিয়া মামলা রাজনৈতিক হয়রানীর শিকার হয়েছিলেন। পরে মামলা প্রত্যাহার করা হয়।
 
রাজনৈতিক হয়রানীর শিকার হন ১২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী গোলাম আশরাফ। তিনি পরে মামলা থেকে অব্যাহতি পান।
 
৫২ ওয়ার্ডের নাছিম মিয়ার বিরুদ্বে রাজনৈতিভাবে ২০০৩ সালে অস্ত্র আইনে মামলা করা। এমনকি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে লগি-বইঠার মিছিলের ওপর হামলার ঘটনায় তাকে আসামী করে মামলা করা হয়। পরে রাজনৈতিক হয়রানী মূলক এসব মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পান।
 
১৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী হোসেন হায়দার নামে দায়ের উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত ভাবে করা মামলাটি ২০১০ সালে প্রত্যাহার করা হয়।
 
হয়রানীর শিকার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী গোলাম মোস্তফার মোট চারটি মামলা থেকে অব্যাহতি পান।
 
দুটি মামলায় পুলিশের অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি পান ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মোহাম্মদ সাহিদ।
 
৫০ ওয়ার্ডের সায়েম খন্দকারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন।
 
৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ইলিয়াস রশীদের নামে মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি অথবা খালাস পেয়েছেন।
 
২০০১ সালের আগে তাঁর নামে থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি পর্যন্ত (জিডি) ছিল না। কিন্তু পরবর্তীতে বিএনপি ক্ষমতায় এসে তার নামে একাধিক মামলা দায়ের করে।
 
৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কালাম হয়রানীর মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।
 
৪০ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আসাদুল্লাহর বিরুদ্ধেও বেশকিছু হয়রানীর মামলা করা হয়।
 
৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাসান আসকারীর নামে বর্তমানে হয়রানীর একটি মামলা চালু রয়েছে।
 
 ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের ময়নুল হকের বিরুদ্ধে একটি মামলাটি শুনানির অপেক্ষায় আছে। এটি পরিকল্পিতভাবে করা হয় বলে অভিযোগ আছে।