ইংল্যান্ডকে হতাশ করলো উইন্ডিজ

 
 
ওয়ানডে অধিনায়ক জেসন হোল্ডার আট নম্বরে ব্যাট করতে নেমেও অনবদ্য এক সেঞ্চুরি হাঁকালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হার এড়িয়ে অ্যান্টিগা টেস্ট ড্র করলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হোল্ডার ১০৩ রান করেন।
 
ক্যারিবীয় সাগরপারের এ খেলাটিতে জিততে না পারলেও ইংল্যান্ড পেসার জেমস অ্যান্ডারসনের নিজ দেশের হয়ে স্যার ইয়ান বোথামকে ছাড়িয়ে সর্বাধিক উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়েন এদিন। নিজের শততম টেস্টে ৩২ বছর বয়সী অ্যান্ডারসন ৩৮৪তম উইকেটটির দেখা পেয়ে এ নজির গড়েন।
 
এ সময় তার পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও মাঠে ছিলেন ধারাভাষ্যকার হিসাবে সেখানে যাওয়া বোথামও। ১৯৯২ সালে অবসর নেয়া বোথাম ১০২টি টেস্ট খেলে ৩৮৩ উইকেট শিকার করে এতদিন রেকর্ডটির নিজের দখলে রেখেছিলেন।
 
ইংল্যান্ডের ছুড়ে দেয়া ৪৩৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে গত শুক্রবার টেস্টটির পঞ্চম ও শেষ দিনে সাত উইকেটে ৩৫০ রান করে ক্যারিবীয়রা। ফলে ড্র হয় তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টটি। আগের দিনের সঞ্চয় দুই উইকেটে তোলা ৯৮ রান নিয়েই খেলতে নেমেছিল ক্যারিবীয়রা। লাঞ্চ পর্যন্ত পরিস্থিতি ছিল ইংল্যান্ডের পক্ষেই। কেননা সেসময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ১৬২/৫। আউট হওয়া পাঁচ ব্যাটসম্যানের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৫ রান করেন ওপেনার ডেভন স্মিথ। দলীয় ১৮৯ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান জার্মেই ব্ল্যাকউড ব্যক্তিগত ৩১ রানে ফিরে গেলে জয় নাগালের মধ্যেই চলে আসে ইংল্যান্ডের। কিন্তু সপ্তম উইকেটে জুটি বেঁধে ইংল্যান্ডের জয়ে বাদ সাধেন স্বাগতিক অধিনায়ক দিনেশ রামদিন ও হোল্ডার। রান তোলার চেয়ে উইকেটে থাকাতেই বেশি মনোযোগ দেন রামদিন। আর রান তোলায় মনোযোগী ছিলেন হোল্ডার। 
 
রামদিন ১৪১ বলে ৫৭ রান তুলে বিদায় নিলে অবসান ঘটে সপ্তম উইকেট জুটির। এ জুটিতে ১০৫ রান ওঠে। তখন আবারো খেলায় ফেরে ইংলিশরা। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভরসার প্রতীক হয়ে ওঠা হোল্ডার দলকে হার থেকে বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত দারুণ এক ইনিংস খেলেন।
 
টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া হোল্ডার অষ্টম উইকেটে কেমার রোচকে নিয়ে ১৮ দশমিক ২ বলের মোকাবিলায় ৫৬ রানের অনবদ্য জুটি গড়ে দলের হার এড়ান। হোল্ডারের ১৪৯ বলের ইনিংসে ছিল ১৫টি চারের মার। রোচ করেন ১৫ রান। 
 
ইংল্যান্ডের পক্ষে এই ইনিংসে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন অ্যান্ডারসন ও জো রুট। এই দুই উইকেটের সুবাদে বোথামকে পিছনে ফেলে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হলেন অ্যান্ডারসন।