বশির আহমদ (১৯৩৬-২০১৪) তার পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত আপদমস্তক শিল্পী। সে গান ছাড়া কিছু বোঝে না। তার খেতেও গান, পরতেও গান, দুঃখেও গান, সুখেও গান। গান নিয়েই তার জীবন যাপন। বশিরের স্ত্রীও শিল্পী, ছেলেও শিল্পী, মেয়েও শিল্পী। তারা শিল্পী পরিবার।
বশিরের বাসায় যখনই গেছি দেখেছি গানের আবহ, পেয়েছি গানের পরিবেশ, কথা হয়েছে গান নিয়ে। এমন সংগীতপ্রাণ শিল্পী আমার জীবনে আমি আর দেখিনি। সে যখন ঘরের বাইরে যায় তখন হয় বেতারে, নয় টেলিভিশনে, নয় চলচ্চিত্রের কোনো দপ্তরে, নয় কোনো রেকর্ডিং স্টুডিওতে, নয় কোনো সিডি-ডিভিডি কোম্পানিতে। অর্থাত্ সংগীত জগত্ নিয়েই তার যত কর্মকাণ্ড, উদ্যোগ, স্বপ্ন-কল্পনা ও পরিকল্পনা।
বশিরের মাতৃভাষা উর্দু, শিক্ষার মাধ্যমও উর্দু। বড়োও হয়েছে উর্দু পরিবেশে। কিন্তু তার প্রতিষ্ঠা, উন্নতি, অর্জন বাংলা ভাষার গানে। এজন্যে বাংলা উচ্চারণের প্রতি বিশেষ সতর্কতা, নিরলস অভ্যেস তার আয়েত কেরাতের মতো। সে গানের বাণী লেখে উর্দুতে। কিন্তু তার বাংলাগানের বাণীর উচ্চারণে ভুল ধরা মুশকিল। এটা তার বাংলাগানের প্রতি, বাংলা ভাষার প্রতি বিশ্বস্ততাই বলব।
বাংলাগানে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার বশির আহমদকে একুশে পদক (২০০৫) প্রদান করেন।
একদিন বশিরের সঙ্গে অভিবাসন বিষয়ে কথা হচ্ছিল। সে কথায় কথায় বলল— অন্য কোথাও গিয়ে যতই বিত্ত-প্রতিপত্তি লাভ করুক না কেন মানুষ তার জন্মস্থান মাতৃভূমিকে কখনো ভুলতে পারে না। এই বিষয়ে আমি তাকে একটি গান লিখে দেই। গানটি হলো—
সেই যে কবে ঘর ছেড়েছি!
আর তো ঘরে ফেরা হলো না
লেখকের ‘সংগীতভাবনা’ ( বাংলা একাডেমি, ২০১২) বই থেকে