জনগণ শান্তি ও উন্নয়নের পক্ষে ভোট দেবে :নাসিম

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জনগণ শান্তি ও উন্নয়নের পক্ষে ভোট দেবে। আন্দোলনের নামে ৯২ দিনে বিএনপি-জামায়াত যেভাবে পুড়িয়ে মানুষ হত্যাসহ যে নাশকতা চালিয়েছে তার সমুচিত জবাব ব্যালটের মাধ্যমে দেবে ঢাকা ও চট্টগ্রামবাসী।

গতকাল রবিবার দুপুরে মহাখালিস্থ জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালকে দেড়শ’ থেকে তিনশ’ শয্যায় উন্নীতকরণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া শনিবার ভোট চাইতে বিভিন্ন মার্কেটে যান। অথচ ওই মার্কেটগুলোই তিনি জোর করে তিন মাস ধরে হরতাল-অবরোধের নামে বন্ধ রাখার চেষ্টা করেছিলেন। যে গাড়িতে করে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় নামেন সেই গাড়ির চালকসহ নারী-শিশু-অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদেরও তিনি পুড়িয়ে হত্যা করেন। যারা জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছে তাদের কী জনগণ ভোট দেবে? জনগণ তাদের ভোট দিতে পারেই না।
 
বিএনপি নেত্রীর উদ্দেশে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, দেরিতে হলেও আপনি শান্তির পথে এসেছেন। গণতান্ত্রিক ও শান্তির পথেই থাকুন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে কোনো পরামর্শ থাকলে তা দিয়ে বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা করুন।
 
সরকারি সব হাসপাতালে সান্ধ্যকালীন রাউন্ড অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিত্সকদের আরো আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। ক্যান্সারে আক্রান্তরা যাতে বিনামূল্যে চিকিত্সা সেবা পায় সেজন্য জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে প্রয়োজনে আরো বেশি বরাদ্দ দেয়ার আশ্বাস দিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ক্যান্সার চিকিত্সায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে আমাদের আরো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।
 
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম দুপুরে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পৌঁছে প্রথমে এ হাসপাতালের কেবিন ও সাধারণ ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। এ সময় রোগী ও তার স্বজনরা মন্ত্রিকে কাছে পেয়ে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
 

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মো. মোসাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বিমান কুমার সাহা, বিএমএ সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান, মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. মো. শাহ নেওয়াজ, পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. শামিউল ইসলাম প্রমুখ।